17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনাটোরে জামায়াত-এ-ইসলামি আমিরের ঐক্যবদ্ধতা ও দুর্নীতি বিরোধী বক্তব্য

নাটোরে জামায়াত-এ-ইসলামি আমিরের ঐক্যবদ্ধতা ও দুর্নীতি বিরোধী বক্তব্য

শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি আমির, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাটোরের নবাব সিরাজ‑উদ‑দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপস্থিত ভক্ত ও জোটের প্রার্থীদের সামনে অতীতের বিরোধে আটকে না থেকে একসাথে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতা দেন।

বক্তৃতার শুরুতে তিনি ধর্মীয় পরিচয়কে জাতীয় ঐক্যের বাধা না করে, সব ধর্মের মানুষকে এক বাগানের বিভিন্ন ফুলের গাছেরূপে উল্লেখ করে, সবাই মিলিয়ে একটি সুন্দর বাগান গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা করা যাবে না এবং সকলের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা হবে।

শফিকুর রহমান দেশের বাইরে লুকিয়ে থাকা বিশাল সম্পদের কথা তুলে ধরে, যা তিনি ২৮ লাখ কোটি টাকার বেশি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলছেন, যদি আল্লাহর সাহায্য ও সক্ষমতা পান, তবে অবৈধভাবে বহির্বাহিত অর্থকে দেশের কোষে ফিরিয়ে এনে, বঞ্চিত ও দরিদ্র এলাকায় ন্যায়সঙ্গতভাবে বরাদ্দ করা হবে। তিনি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই অর্থ পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার বলে জোর দেন।

অধিকন্তু, তিনি রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের অস্বচ্ছতা ও পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়ার প্রথা শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন। লাল‑নীল টেলিফোন, প্রেসিডেন্ট‑প্রধানমন্ত্রী ইত্যাদি শিরোনামকে অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করে, প্রত্যেকের পাওনা ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

শফিকুর রহমানের মতে, বাংলাদেশ যদি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ থাকে, তবে জামায়াতের সমর্থকও সমৃদ্ধি পাবে। তিনি অতীতের ৫৪ বছর, তিনটি প্রধান দল শাসন করে যে ধরনের শাসন প্রদান করেছে, তা বিশ্লেষণ করে ভোটের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

তিনি তরুণদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ ইতিমধ্যে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। তারা ন্যায় ও সত্যের পক্ষে লড়াই করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত বা চাঁদাবাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় না।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মদিনার আদলে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমতা-নির্ভর সমাজের ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এমন সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে; নারীরা কোনো ভয় ছাড়াই ঘরে-বাইরে চলাচল করতে পারবে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।

শফিকুরের বক্তব্যে ধর্মীয় সহনশীলতা, অর্থ পুনরুদ্ধার, এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতার মিশ্রণ দেখা যায়, যা তার পার্টির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি ভয় পাওয়ার দরকার নেই, ফলে দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

এই সমাবেশে জামায়াত-এ-ইসলামির জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, যা ঐক্যের দৃঢ়তা প্রকাশের লক্ষ্যে করা হয়। উপস্থিত ভক্তরা উল্লাসের সঙ্গে তার বক্তৃতা শোনেন এবং পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

বিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা শফিকুরের ঐক্যবদ্ধতা ও দুর্নীতি বিরোধী ঘোষণাকে নির্বাচনী সময়ে সাধারণ র‍্যাপোর্ট হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের বক্তব্য পার্টির ভিত্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দেন, শফিকুরের অর্থ পুনরুদ্ধার ও ন্যায়সঙ্গত বরাদ্দের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সহযোগিতা ও দেশীয় আইনি কাঠামোর শক্তিশালীকরণ প্রয়োজন হবে। তিনি যে পরিমাণ অর্থ উল্লেখ করেছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অপরিহার্য।

অবশেষে, শফিকুরের বক্তৃতা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি জাতীয় ঐক্য, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চান। এই রকম প্রকাশনা নির্বাচনী সময়ে পার্টির সমর্থন বাড়াতে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments