19 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাশাবিপ্রবিতে ক্রিকেট ফাইনালে সংঘর্ষে শিক্ষকসহ ১৬ জন আহত

শাবিপ্রবিতে ক্রিকেট ফাইনালে সংঘর্ষে শিক্ষকসহ ১৬ জন আহত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে লোকপ্রশাসন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র বিরোধে শিক্ষকসহ কমপক্ষে ষোলোজন আহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল প্রায় পাঁচটায়, যখন দুই বিভাগের দল প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে প্রবেশ করছিল। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র শব্দবিনিময় এবং শারীরিক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যার ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে, উভয় দলের মধ্যে একটি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। সিদ্ধান্তের পর প্রায় চারটায় উত্তেজনা বাড়ে, এবং খেলায় সাময়িক বিরতি থাকে। বিরতির পর আবার খেলা শুরু হলেও, বিকেল পাঁচটায় মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে বাংলা বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী লোকপ্রশাসন বিভাগের একটি ফিল্ডারকে তীব্র শব্দে সমালোচনা করে, যা দ্রুত শারীরিক ধাক্কা-প্রহারের রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় কয়েকজন শিক্ষকও সরাসরি হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন, তবে তাদেরও আঘাতের শিকার হতে হয়। লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী এবং প্রভাষক আব্দুল বাসিত, পাশাপাশি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক আহত হন। অধ্যাপক সিদ্দিকী ও প্রভাষক বাসিতকে মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বাকি দুজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৮-১৯, ২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান, সোহানুর রহমান, শাকিল শাহরিয়ার, নওশাদ খান, মো. রাহুল এবং যশমন্ত মল্লিক অন্তর্ভুক্ত। দুজনকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর বাকি চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক সেবা প্রদান করা হয়েছে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও আঘাতের শিকার হতে হয়। ২০২০-২১, ২০২২-২৩ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের রেদুয়ান করিম, সাজিদ আবরার, ফারদিন ইসলাম, মাহফুজ, নোহান ইমতিয়াজ এবং ইহসানুল হক মিলন আহত হন। তাদের মধ্যে সাজিদ ও ফারদিনকে মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্যদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

ইয়ান ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান হিসেবে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালককে নিয়োগ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কর্মী অন্তর্ভুক্ত। কমিটি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের ওপর প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি এবং উপস্থিতদের বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম ইনিংসের পর বাংলা বিভাগের দল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলে উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। আম্পায়ারের এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র শব্দবিনিময় শুরু হয়, যা পরবর্তীতে শারীরিক ধাক্কা-প্রহারে রূপ নেয়। “স্লেজিং” এবং “বাগবিতণ্ডা” নামে পরিচিত শব্দবিনিময় প্রায় বিশ মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ করে রাখে, তবে পুনরায় খেলা শুরু হওয়ার পরই সংঘর্ষের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া কার্যক্রমের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি বা নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা কর্মীদের জানানো এবং শারীরিক হস্তক্ষেপের বদলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসরণ করা। আপনার ক্যাম্পাসে ক্রীড়া ইভেন্টের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments