রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত ১১‑দলীয় জোটের নির্বাচনী র্যালিতে আজ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমীর, দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে বিশদ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের ২৩৪ সদস্যের মৃত্যু ঘটার পর থেকে কিছু গোষ্ঠী জামায়াতের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করে চলেছে।
বক্তা বলেন, অতীতের দোষী রেকর্ড থাকা ও স্বার্থপরতা দমন না করতে পারা ব্যক্তিদের কোনো দায়িত্ব দেওয়া যায় না। তিনি রূপক ব্যবহার করে বলেন, “মাংস রক্ষা করতে যদি বিড়ালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে ফলাফল কী হবে?” এভাবে তিনি বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর ক্ষমতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন।
শফিকুর রহমান দেশের ঐক্যকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিগত গোষ্ঠীর মানুষের অধিকার সমানভাবে রক্ষা করা উচিত। তিনি যোগ করেন, যদি আল্লাহ্ আমাদেরকে শাসনের দায়িত্ব দেন, তবে তারা শোষণ, দুর্নীতি ও ঘুষের কোনো সুযোগ দেবে না।
রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শাসকের সন্তানকে শাসক বানিয়ে দেওয়া পারিবারিক রাজনীতি আর চলবে না। ভবিষ্যতে merit, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তোলা হবে, এটাই জামায়াতের লক্ষ্য।
রাজশাহীর উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে তিনি দুই দিকের তুলনা করেন। একদিকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সড়ক ও আবাসিক প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে দুর্নীতি, ঘুষ, ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজারের জালিয়াতি, ক্ষুদ্র ব্যবসার ধ্বংস ও মানি লন্ডারিং বাড়ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য একক ধরণের উন্নয়ন দরকার – মানুষের কল্যাণে ভিত্তিক উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে নারী নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
শফিকুর রহমান রাজশাহীতে একটি ডেন্টাল কলেজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যদিও পূর্বে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে প্রকল্পটি এখনো অগ্রসর হয়নি। তিনি স্থানীয় চিনি কারখানার ক্ষতির মূল কারণকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করেন, যদিও উৎপাদন ও শ্রমিকের উপস্থিতি যথেষ্ট।
বক্তা স্পষ্ট করেন, জামায়াত কোনো পার্টি‑ভিত্তিক বা পারিবারিক শাসন কাঠামো চায় না; তারা একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও ক্ষমতায়নমূলক সরকার গঠনের পক্ষে। তার এই বক্তব্যের পর র্যালির অংশগ্রহণকারীরা তালি ও সমর্থন জানিয়ে উল্লাস করেন।
শফিকুরের মন্তব্যের পর, বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের এমন রেটরিক ভবিষ্যতে নির্বাচনী জোটের গঠন ও ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জোটের ঘোষণা করা হয়নি।
র্যালির সমাপ্তিতে, শফিকুর রহমান আবারও দেশের সকল ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর সমন্বয় ও ঐক্যের আহ্বান জানান, এবং বলেন, “যদি আমরা একসাথে কাজ করি, তবে দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”



