বিদেশী উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ ঢাকা বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো পরবর্তী সরকারকে সহজে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তিনি আজকের মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনে উল্লেখ করেন, “I believe we are advancing several issues to make things easier for the next government,” এবং বলেন, এই চুক্তিগুলো কোনো বোঝা রেখে যাওয়ার জন্য নয়, বরং পরিবর্তনকালীন সময়ে শাসনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য।
২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন ইন্টারন্যাশনাল একত্রে ড্রোন উৎপাদন ও সমাবেশ কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই উদ্যোগটি দেশের স্বয়ংক্রিয় বিমান প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি সম্পন্ন করে, যা দেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাপান থেকে প্রাপ্ত আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
দুই দেশই শীঘ্রই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, আর মার্কিন সরকারের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নির্বাচন সময়ের আগে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই চুক্তিগুলো নির্বাচনের আগে সম্পন্ন হলে, নতুন সরকারকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে দ্রুত সংহত করা সম্ভব হবে।
বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রে, তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার ট্যারিফ হার ৩৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে কমিয়ে এনেছে। তিনি বলেন, “For India and Pakistan, tariff has already come down to 18 percent. We are trying to bring it down to at least that level for Bangladesh. If we can do that, we are reducing the workload of the next government,” যা দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
এই ট্যারিফ হ্রাসের লক্ষ্য হল ভারত ও পাকিস্তানের বর্তমান ১৮ শতাংশের সমান বা তার চেয়ে কম হার অর্জন করা, যাতে পরবর্তী সরকারকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ট্যারিফ হ্রাসের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি খাতে ব্যয় কমে যাবে এবং স্থানীয় শিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, জাপান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তিগুলো হঠাৎ করে না, বরং গত এক বছর থেকে এক বছর অর্ধেক সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। তৌহিদ হোসেন বলেন, “Over the past year or year and a half, we followed them up and brought them close to fruition. Some could have been concluded a month earlier, but we found a few points that we were not satisfied with, so we renegotiated them,” যা দেখায় যে সরকার চুক্তির শর্তে সন্তুষ্ট না হলে পুনরায় আলোচনা করে চূড়ান্ত ফলাফল অর্জন করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাস্তবায়ন ধীরে ধীরে হবে, তবে মূল কাঠামো ইতিমধ্যে স্থাপিত, যা পরবর্তী সরকারকে সহজে অনুসরণ করতে সহায়তা করবে। তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে যোগ করেন, “Even after an agreement is signed, implementation happens gradually. What remains is a framework that the next government can easily follow up on,” ফলে নীতি ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, কিছু ক্ষেত্রেই অগ্রগতি থেমে আছে, তবে নির্বাচিত সরকারকে সম্পর্ক মসৃণ করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, তাই দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থে অপরিহার্য।
তৌহিদ হোসেন শেষ করে বলেন, “Throughout the last 18 months, I wanted good working relations with India,” এবং জোর দিয়ে বলেন যে, নতুন সরকারকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সারসংক্ষেপে, অন্তর্বর্তী সরকার বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক কৌশলগত চুক্তি সম্পন্ন করেছে, ট্যারিফ হ্রাসের মাধ্যমে আর্থিক চাপ কমিয়েছে এবং পরবর্তী শাসনের জন্য একটি পরিষ্কার কাঠামো রেখে গেছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার এই ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।



