ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন সরকার এই সপ্তাহে সমালোচনামূলক খনিজের জন্য ১১.৭ বিলিয়ন ডলারের সংরক্ষণ পরিকল্পনা চালু করার সিদ্ধান্ত জানায়। পরিকল্পনাটি ‘প্রকল্প ভল্ট’ নামে পরিচিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ নিশ্চিত করতে লক্ষ্য রাখে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল কোনো ঘাটতি ঘটলে আমেরিকান ব্যবসা ও কর্মীদের ক্ষতি রোধ করা।
প্রকল্প ভল্টের অধীনে মার্কিন সরকার সমালোচনামূলক খনিজের একটি বিশাল মজুদ গঠন করবে, যার মোট মূল্য প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন ডলার। সংরক্ষণটি দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি উভয়ই সমন্বিত করে গঠন করা হবে, এবং এর পরিচালনা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি বিভাগে থাকবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এই মজুদ গঠন আমেরিকান শিল্প ও কর্মশক্তিকে কোনো সরবরাহ সংকটে থেকে রক্ষা করবে। তিনি বলেন, সমালোচনামূলক খনিজের ঘাটতি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এই ঘোষণার আগে মার্কিন সরকার ইতিমধ্যে USA Rare Earth এবং MP Materials-এ ইকুইটি শেয়ার অর্জন করে রেয়ার আর্থ শিল্পে অংশগ্রহণ বাড়িয়ে নিয়েছে। উভয় কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রেয়ার আর্থ এবং লিথিয়াম ব্যাটারি উপাদান উৎপাদনে কাজ করছে।
এককভাবে দেখলে এই পদক্ষেপগুলো বাজারের অস্থিরতা প্রশমিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, তবে সমষ্টিগতভাবে দেখা যায় যে সরকার ভবিষ্যতে বিদ্যুৎচালিত প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়বে বলে স্বীকার করছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু টারবাইন এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক সিস্টেমের জন্য এই খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সমালোচনামূলক খনিজের ওপর আধিপত্যকে উল্লেখ করে বলেন, অতীত বছরগুলোতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের উপর রেয়ার আর্থ ও লিথিয়াম ব্যাটারি উপাদানের রপ্তানি সীমাবদ্ধ করে ট্যারিফের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই পদক্ষেপটি মার্কিন শিল্পের জন্য সরবরাহের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছিল।
চীন শেষ পর্যন্ত রপ্তানি সীমা হ্রাস করলেও, এই ঘটনা দেখিয়েছে যে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মার্কিন সরকার এখন নিজস্ব মজুদ গঠন করে এই নির্ভরতা কমাতে চায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকল্প ভল্টকে ১৯৭০-এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার পর গঠিত কৌশলগত তেল সংরক্ষণের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, তেল সংরক্ষণ দীর্ঘদিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে এখন বিদ্যুৎ, সোলার, বায়ু এবং ব্যাটারি শক্তি বাজারের অংশ বাড়ার ফলে তার গুরুত্ব কমে গেছে।
কৌশলগত তেল সংরক্ষণ এখনও বিদ্যমান, তবে তার ভূমিকা হ্রাস পেয়েছে বলে সরকারী সূত্র জানায়। নতুন সমালোচনামূলক খনিজ মজুদকে একই স্তরে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে শিল্পখাতের জন্য কোনো ঘাটতি না থাকে।
এই উদ্যোগের রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। দেশীয় খনিজ উত্তোলনের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন, পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনায় নতুন শর্ত আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষই সরবরাহ নিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে মার্কিন শক্তি বিভাগ সংরক্ষণ গঠনের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করবে, যার মধ্যে মজুদ গঠনের সময়সীমা, তহবিলের ব্যবহার এবং তত্ত্বাবধানের পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে কয়েকটি প্রধান খনিজের জন্য মজুদ গঠন শুরু হবে এবং তা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হবে।
সারসংক্ষেপে, সমালোচনামূলক খনিজের জন্য ১১.৭ বিলিয়ন ডলারের সংরক্ষণ প্রকল্প মার্কিন শিল্পের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে লক্ষ্য রাখে।



