সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ নেতারা রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে রিয়াদের আল‑ইয়ামামাহ প্রাসাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকটি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
এরদোয়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে রিয়াদের সফর শেষ করে এই বৈঠকে উপস্থিত হন, যেখানে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। দুজন নেতা ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা গভীর করার উপায় খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় জানান।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশ দ্রুত স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। উভয় পক্ষই উল্লেখ করেছে যে, পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধ দমন, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা, এবং তাদের অর্থায়ন বন্ধ করা অগ্রাধিকার।
প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার কথাও যৌথ বিবৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোকে আঞ্চলিক বহু‑পক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে সমন্বিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের অগ্রগতির প্রশংসা করে দুজন নেতা ভিশন ২০৩০ এবং তুরস্কের ‘সেঞ্চুরি অব তুর্কি’ পরিকল্পনার অধীনে বিনিয়োগের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর কথা বলেছেন। উভয় দেশই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দেবে বলে জানিয়েছে।
সৌদি আরবের তুরস্কে বিনিয়োগের প্রশংসা করা হয়, বিশেষ করে আর্থিক সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রিয়েল এস্টেট ও উৎপাদন শিল্পে। তুরস্কের কোম্পানিগুলোকে সৌদি বাজারে তাদের অবদান স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা উন্মোচিত করা হয়েছে।
শক্তি ক্ষেত্রে দুজন দেশ বৈশ্বিক তেলবাজারে সৌদি আরবের ভূমিকা স্বীকার করে তেল, পেট্রো‑কেমিক্যাল ও কৃষি পণ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ক্লিন হাইড্রোজেন উৎপাদন এবং পরিবহন প্রযুক্তিতে যৌথ প্রকল্পের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
অধিকন্তু, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা উভয় দেশের শিল্প ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
গাজা অঞ্চলে মানবিক সংকটের প্রতি দু’দেশই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং অবরোধের ফলে মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়া থেকে রোধের আহ্বান জানায়। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চাওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে, সৌদি ও তুরস্কের নেতৃত্ব এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একসাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সিরিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
দুই দেশ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করেছে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যৌথ কৌশল গঠন এবং বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে, উভয় সরকারই স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর দ্রুত কার্যকরীকরণ, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য শেয়ারিংকে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোকে দু’দেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।



