ইলেকশন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। দেশীয় নির্বাচন সপ্তাহের আগমনে তথ্যের ভ্রান্তি রোধকে ইসি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এ বিষয়ে তৎপরতা প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে ইসির সচিব উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালীন ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তারা শুরুর থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং পরিস্থিতিকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
ইন্টারনেটের গতি কমানো বা নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের বিরোধিতা ইসির অবস্থান স্পষ্ট করে। সচিব বলেন, তারা মেটার সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট আক্রমণাত্মক, বিদ্রূপাত্মক বা অপপ্রচারমূলক কন্টেন্ট দ্রুত ডাউনলোডের ব্যবস্থা চেয়েছে। গতি কমিয়ে সামগ্রিক সেবা বন্ধ করার পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক কন্টেন্ট অপসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেল সরাসরি ইসির এআই সেলের সঙ্গে সমন্বয় করছে, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। সহযোগিতার পরিধি ও পদ্ধতি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে, তবে উভয় পক্ষই সামাজিক মিডিয়ায় গুজব দমনকে মূল লক্ষ্য হিসেবে রেখেছে।
ইসির সচিবের মতে, মেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের বিস্তার রোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। এই প্রত্যাশা প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তবে তারা কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করেছে বা কী পর্যবেক্ষণ করেছে তা ইসির অফিসে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। প্রতিনিধিরাও এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
প্রতিনিধি দল পরবর্তীতে একটি ব্রিফিং ও প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে, যাতে তাদের পর্যবেক্ষণের ফলাফল জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়। এই রিপোর্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে ইসির সচিব উল্লেখ করেন, প্রতিনিধিদলের ছয় সদস্যের কেউই পূর্বে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ করেননি। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের নতুন দৃষ্টিকোণকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
বৈঠকের আলোচনায় নারী অংশগ্রহণের হার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মতবিনিময় হয়েছে। উভয় পক্ষই নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ও লিঙ্গ সমতার বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করেছে।
এদিকে, ইসির সচিব ব্যালট পেপার বিতরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি জানিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পেপার পৌঁছানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। এই সময়সীমা পূরণে লজিস্টিক্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় চলছে।
ব্যালট পেপার বিতরণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সময়মত ডেলিভারির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা হচ্ছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ধাপটি গুরুত্বপূর্ণ বলে ইসির সচিব জোর দিয়েছেন।
বৈঠকের শেষে ইসির সচিব উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি কোম্পানি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও ন্যায়পরায়ণতা বাড়াতে সহায়ক হবে। গুজবের দ্রুত সনাক্তকরণ ও অপসারণে এ ধরনের সহযোগিতা অপরিহার্য।
সার্বিকভাবে, ইসির সচিবের বক্তব্যে গুজব মোকাবিলা, মেটা সমন্বয়, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং ব্যালট বিতরণে অগ্রগতি—এই চারটি মূল দিককে নির্বাচন প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সফলতা নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



