লোগোস স্পেস সার্ভিসেসকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোম্পানি ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪,০০০টির বেশি ব্রডব্যান্ড স্যাটেলাইট লো আর্থ অরবিটে উৎক্ষেপণ করবে। অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, অনুমোদিত মোট স্যাটেলাইটের অর্ধেকের বেশি পরবর্তী সাত বছরের মধ্যে স্থাপন করতে হবে।
এফসিসি নিয়ম অনুসারে, লোগোসকে প্রথম সাত বছরে কমপক্ষে ২,০০০ স্যাটেলাইট চালু করতে হবে, যাতে সেবা শুরু হওয়ার আগে নেটওয়ার্কের মৌলিক কাঠামো গড়ে ওঠে। এই সময়সীমা পূরণ না হলে অনুমোদন বাতিলের ঝুঁকি থাকে, তাই কোম্পানি দ্রুত উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা চালু করেছে।
লোগোসের প্রতিষ্ঠাতা মাইলো মেদিন, নাসার প্রাক্তন প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং গুগলে (গুগল) ওয়্যারলেস সার্ভিসেসের উপ-সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন। তার বৈমানিক অভিজ্ঞতা এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে গভীর জ্ঞান কোম্পানির কৌশলগত দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কোম্পানি ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে তহবিল সংগ্রহ করে আসছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তহবিলের প্রধান উৎস হল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রাইভেট ইকুইটি, যা লোগোসকে উচ্চ গতি ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
লোগোসের পরিকল্পিত লো আর্থ অরবিট কনস্টেলেশন বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের, সরকারী সংস্থা এবং কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের জন্য উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ সরবরাহ করবে। স্যাটেলাইটগুলো একে অপরের সাথে লেজার লিংক ব্যবহার করে ডেটা ট্রান্সমিট করবে, ফলে ভূ-ভিত্তিক নেটওয়ার্কের তুলনায় কম লেটেন্সি এবং বিস্তৃত কভারেজ নিশ্চিত হবে।
ব্রডব্যান্ড স্যাটেলাইট বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে, তবে বর্তমানে স্পেসএক্সের স্টারলিংকই সবচেয়ে বড় অংশীদার। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) অনুমান করে যে বর্তমানে কক্ষপথে প্রায় ১৪,০০০টি কার্যকর স্যাটেলাইট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৯,৬০০টি স্টারলিংক কনস্টেলেশনের অংশ।
স্টারলিংকের আধিপত্যের পরিপ্রেক্ষিতে, লোগোসের প্রবেশ নতুন প্রতিযোগিতা এবং সেবা বৈচিত্র্য আনতে পারে। ইএসএ উল্লেখ করেছে যে স্টারলিংক ছাড়া অন্যান্য স্যাটেলাইট সেবা এখনও সীমিত, ফলে লোগোসের মতো নতুন খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বাজারে দামের প্রতিযোগিতা এবং সেবা মান উন্নত করতে পারে।
স্পেসএক্সের একটি সহায়ক সংস্থা সম্প্রতি এফসিসি থেকে এক মিলিয়ন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অনুমোদনের আবেদন করেছে, তবে পূর্বের অনুমোদন অনুযায়ী এফসিসি প্রায় ৭,৫০০টি স্যাটেলাইটের অনুমোদন দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই সংখ্যা লোগোসের পরিকল্পনার তুলনায় বড় হলেও বাস্তবিকভাবে অনুমোদন সীমা এখনও সীমিত।
ইএসএ ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথে মোট ১,০০,০০০টি স্যাটেলাইট থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই বৃদ্ধির ফলে মহাকাশ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, কক্ষপথের নিরাপত্তা এবং সিগন্যাল হস্তক্ষেপের বিষয়গুলোতে নতুন চ্যালেঞ্জ উত্থাপিত হবে।
লোগোসের সেবা যদি সফলভাবে চালু হয়, তবে গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চলে ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। উচ্চ গতির সংযোগের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষি খাতে ডিজিটাল সমাধান সহজলভ্য হবে, যা দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়তা করবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্র এবং স্বতন্ত্র থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলো লোগোসের উদ্যোগকে মহাকাশ ভিত্তিক যোগাযোগের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে। তারা উল্লেখ করেছে যে একাধিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সমন্বয় গ্রাহকদের জন্য বিকল্প পথ সরবরাহ করবে এবং সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমাবে।
ভবিষ্যতে লোগোসের কনস্টেলেশন কীভাবে বিকশিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে এফসিসি অনুমোদন এবং তহবিল সংগ্রহের সাফল্য কোম্পানিকে দ্রুত অগ্রসর হতে সক্ষম করবে। যদি ২০২৭ সালে প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়, তবে পরবর্তী দশকে লোগোসের নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী ব্রডব্যান্ড বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।



