19 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরংপুরে জাতীয় পার্টির ‘হাল’ বজায় রাখতে নীরব ভোটারদের ভূমিকা

রংপুরে জাতীয় পার্টির ‘হাল’ বজায় রাখতে নীরব ভোটারদের ভূমিকা

রংপুর জেলায় জাতীয় পার্টির ‘হাল’ চিহ্নকে ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে দলটি এই অঞ্চলে তার প্রভাব রক্ষার জন্য তীব্র প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা এই আধিপত্য ভাঙার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

জাতীয় পার্টি বড় আকারের সমাবেশ না করলেও তার প্রার্থীরা দরজায় দরজা গিয়ে, জনসাধারণের আয়োজন ও আঙিনার সভার মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি সমর্থন চাওয়া হচ্ছে, যদিও কিছু নির্বাচনী এলাকায় এই পদ্ধতি প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।

মাঠ পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, কিছু নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীরা স্বাগত পেয়েছে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া কমই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে নীরবতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা পার্টির জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জাতীয় পার্টি রেফারেন্ডামে ‘না’ ভোটের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু সমর্থক উন্মুক্তভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা পার্টির ঐতিহ্যবাহী ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এ spite, জাতীয় পার্টির নেতারা আশাবাদী যে গ্রামীণ স্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নীরব ভোটের মাধ্যমে ‘হাল’ চিহ্নকে সুরক্ষিত করতে সাহায্য করবে। তারা বিশ্বাস করে, এই ধরনের কৌশল পার্টির জয় নিশ্চিত করতে পারে।

জাতীয় পার্টির সহ-চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন রংপুর সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফা বলেন, “যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে আমরা রংপুরকে ‘হাল’ের ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখতে পারব।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিভাগের ৩৩টি আসনে আমাদের প্রার্থীরা কমপক্ষে ১২টি জিতবে।”

মোস্তাফা একই সঙ্গে নির্বাচন প্রচারে বাধা পেতে পার্টির প্রার্থীদের মুখোমুখি সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় প্রচার কার্যক্রমে বাধা, ব্যানার ও ফেস্টুন কেটে ফেলা এবং পার্টি অফিসে আক্রমণের হুমকি পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়াও তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। পার্টি ও চেয়ারম্যানের ওপর ইচ্ছাকৃত গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নষ্ট করার উদ্দেশ্য বহন করে।

লালমনিরহাট-১ (হাতিবন্ধা‑পাটগ্রাম) নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও প্রাক্তন মন্ত্রী মোশিউর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তার পূর্ণ নাম ও প্রোফাইলের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি এই এলাকায় পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায় রংপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তুলতে চেষ্টা করছে, যাতে শেষ মুহূর্তে ভোটের প্রবাহ তাদের পক্ষে যায়।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, রংপুরের ফলাফল দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নীরব ভোটারদের আচরণ, রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত মতবিরোধ এবং নির্বাচনী প্রচারের বাধা-সুবিধা সবই এই নির্বাচনের গতি নির্ধারণে মূল উপাদান হবে।

অবশেষে, জাতীয় পার্টি আশা করে যে ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত হলে ‘হাল’ চিহ্নের ঐতিহ্যিক ঘাঁটি রংপুরে অটুট থাকবে এবং পার্টি তার লক্ষ্যিত আসন সংখ্যা অর্জন করতে পারবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments