ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমির, ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় উল্লেখযোগ্য বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নিজের আইডি হ্যাক করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সাইবার টিমের তদারকি শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবারতন্ত্রকে রক্ষা করতে চাওয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সতর্কতা জোরিয়ে বলা। শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, যারা দেশের স্বায়ত্তশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে পরিবারভিত্তিক শাসন গড়ে তুলতে চায়, তারা আইডি হ্যাকের মাধ্যমে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘মিসাইল নিক্ষেপ’ রূপে বর্ণনা করে তীব্র সমালোচনা করেন।
এরপর তিনি দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর জোর দেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম সকল ধর্মের মানুষের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের মাটিতে গড়ে উঠেছে এবং কোনো ধর্মের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। নারীর মর্যাদা রক্ষার জন্য তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি জানান, মায়ের অপমান সহ্য করা হবে না এবং এমন কোনো ঘটনা ঘটলে যুবকদের প্রতিবাদে গর্জে উঠার অধিকার থাকবে।
শফিকুর রহমান বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগস্টে রাস্তায় নেমে সংগ্রাম করা যুবক-যুবতীরা বেকার ভাতা চায়নি, তবে এখন সরকারী সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। তার মতে, এই তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তিনি আহ্বান জানান, “কাজ করো, দেশ গড়ো, দেশ তোমাদের বদলে দাও” এই নীতির ওপর ভিত্তি করে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হয়।
কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন সম্পর্কেও তিনি বিশদ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। উত্তরাঞ্চলকে “কৃষি শিল্পের রাজধানী” বানানোর লক্ষ্যে ধান‑আম গবেষণার জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট গঠন করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। এছাড়া, স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগগুলোকে দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন বাড়ানোর মূল কৌশল হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।
সভাটির আয়োজন জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমির খ. ম. আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে করা হয়। কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় এবং ১১টি উপজেলা থেকে কয়েক লাখ সমর্থক ও কর্মী অংশগ্রহণ করেন। সভায় আলোচিত বিষয়গুলোকে ভিত্তি করে পার্টি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যা আসন্ন স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত-এ-ইসলামি আগামী সময়ে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য নীতি নির্ধারণ ও কর্মসূচি চালু করবে বলে জানানো হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা, নারী ও মায়ের মর্যাদা রক্ষা, বেকারত্ব মোকাবেলা এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষি‑শিল্প উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে পার্টি তার রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই ঘোষণাগুলো স্থানীয় স্তরে ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তবে পার্টি নিজেই এই লক্ষ্যগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



