জার্মানির ফেডারেল কার্টেল অফিস (Bundeskartellamt) আমাজনের বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণে হস্তক্ষেপের জন্য $70 মিলিয়ন জরিমানা আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তে কোম্পানির জার্মানিতে চলমান মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে, যা ই-কমার্স বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে।
Bundeskartellamt জানিয়েছে যে আমাজন বিভিন্ন মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের তালিকাভুক্ত পণ্যের দাম পর্যবেক্ষণ করে। নির্ধারিত দাম যদি উচ্চ বলে বিবেচিত হয়, তবে সাইটটি সম্পূর্ণভাবে তালিকাটি মুছে ফেলতে পারে অথবা “Buy Box”-এ তার দৃশ্যমানতা সীমিত করতে পারে। বিকল্পভাবে, পণ্যটি “সব বিক্রয় বিকল্প দেখুন” বা “অন্যান্য বিক্রেতা আমাজনে” মতো কম প্রচারিত বিভাগে স্থানান্তরিত হয়।
এই ধরনের দৃশ্যমানতার হ্রাস বিক্রেতাদের বিক্রয় আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। কম প্রচারিত পণ্যগুলো গ্রাহকের নজরে না এলে, বিক্রেতারা সম্ভাব্য ক্রেতা হারিয়ে ফেলতে পারেন এবং ফলস্বরূপ বিক্রয় ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই প্র্যাকটিসকে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ক্ষুণ্নকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রতিযোগিতামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাজনের আচরণকে অবৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে, কারণ কোম্পানি নিজেই একই প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পণ্য বিক্রি করে। তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা ওয়েবসাইটের মোট বিক্রয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ দখল করে, ফলে তারা আমাজনের নিজস্ব রিটেইল ব্যবসার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দ্বৈত ভূমিকা বাজারে মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ন করে।
কার্টেল অফিসের সভাপতি আন্দ্রেয়াস মুন্ড্ট উল্লেখ করেছেন যে, আমাজনকে কেবলমাত্র অতি বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন অতিরিক্ত মূল্যের ক্ষেত্রে, মূল্য প্রভাবিত করার অনুমতি দেওয়া উচিত। তিনি “অত্যধিক মূল্য” কী তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ না করলেও, বর্তমান প্র্যাকটিস চালিয়ে যাওয়া আমাজনকে নিজের ধারণা অনুযায়ী মূল্য স্তর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেবে বলে সতর্ক করেছেন।
মুন্ড্টের মতে, এই ক্ষমতা আমাজনকে নিজের সাইটের বাইরে থাকা অন্যান্য অনলাইন রিটেইল ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেবে। তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা যদি তাদের খরচ পূরণ করতে না পারে, তবে তারা মার্কেটপ্লেস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে বাজারে বিক্রেতা সংখ্যা কমে যাবে এবং গ্রাহকের পছন্দের বৈচিত্র্য হ্রাস পাবে।
আমাজনের জার্মানি দেশীয় ব্যবস্থাপক রক্কো ব্রয়েনিগার জানান যে, কোম্পানি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে এবং বর্তমান কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে, আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীনও আমাজন জার্মানিতে তার সেবা স্বাভাবিকভাবে প্রদান করবে। এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয় যে, কোম্পানি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে তার ব্যবসায়িক মডেল বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জার্মানিতে আরোপিত $70 মিলিয়ন জরিমানা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিযোগিতা নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। এই শাস্তি আমাজনের মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্র্যাকটিসকে থামাতে এবং তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের স্বতন্ত্র মূল্য নির্ধারণের স্বাধীনতা রক্ষায় লক্ষ্য রাখে।
বাজার বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, এই রায়ের ফলে জার্মানিতে আমাজন মার্কেটপ্লেসে বিক্রেতা সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। বিক্রেতারা বিকল্প প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, যা ই-কমার্স পরিবেশে নতুন প্রতিযোগিতামূলক গতিবিদ্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে জার্মানির প্রতিযোগিতা সংস্থা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ইচ্ছা স্পষ্ট। তারা উল্লেখ করেছে যে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ন্যায্য বাজার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে আমাজনকে তার অ্যালগরিদম ও মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে, যাতে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের সঙ্গে সমতা বজায় থাকে। এই পরিবর্তন জার্মানির ই-কমার্স বাজারে মূল্য গঠনের ধরণকে প্রভাবিত করবে এবং সম্ভাব্যভাবে গ্রাহকের জন্য বেশি বিকল্প ও স্বচ্ছতা আনবে।
সারসংক্ষেপে, Bundeskartellamt এর সিদ্ধান্ত আমাজনের জার্মানিতে মূল্য হস্তক্ষেপের প্র্যাকটিসকে বাধা দেয় এবং $70 মিলিয়ন জরিমানা আরোপ করে। কোম্পানি আপিলের পথে থাকলেও, তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের স্বতন্ত্র মূল্য নির্ধারণের অধিকার রক্ষার জন্য এই রায় গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রান্তিক। বাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এখন এই আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।



