ভারত এ দলের ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার যাদব জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি ১৫ তারিখে কোলম্বোতে নির্ধারিত পাকিস্তান বিরোধী ম্যাচে দল অংশগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন। উভয় দলের সরকারী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও, ভারত এ ইতিমধ্যে কোলম্বোতে উড়ানের ব্যবস্থা করেছে এবং সময়মতো মাঠে উপস্থিত হবে।
সুর্যকুমার যাদবের মতে, পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি উল্লেখ করেছেন, “এটি আমাদের দায়িত্বের বাইরে, তবে আমরা নির্দেশনা পেয়ে ১৫ তারিখে খেলা হবে বলে জানানো হয়েছে।” তিনি অতিরিক্তভাবে জানিয়েছেন, এশিয়া কাপের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে তিনবার মুখোমুখি হয়ে ভারত এ ভাল ক্রিকেট দেখিয়েছে, জয় অর্জন করেছে এবং দলটি তাতে আনন্দিত ছিল।
ক্যাপ্টেন আইসিসি-কে কঠিন অবস্থায় রাখার কথা উল্লেখ করে সুর্যকুমার বললেন, “আইসিসি জন্য এটি সহজ কাজ নয়। সরকারী বা অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ থাকলে তারা কীভাবে সহায়তা করতে পারে তা স্পষ্ট নয়।” তিনি যোগ করেন, যদি ফিক্সচার নিশ্চিত হয়, ভারত এ অবশ্যই মাঠে নামবে।
পাকিস্তান দলের ক্যাপ্টেন সালমান আলি আগা, কোলম্বোতে অবস্থানকালে একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সরকারী সিদ্ধান্ত এবং আমরা তা মেনে চলি।” এছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান দল তিনটি অন্য ম্যাচের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত এবং সেসব গেমের জন্য তারা উচ্ছ্বসিত।
ভারত এ ক্যাপ্টেন স্পষ্ট করে বলেছেন, দল কোনোভাবে খেলা প্রত্যাখ্যান করবে না। বিসিসিআই ও সরকারী কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্বাচন করা হয়েছে এবং ফ্লাইট ইতিমধ্যে বুক করা হয়েছে। তিনি যোগ করেন, “আইসিসি ফিক্সচার নির্ধারণ করেছে, বিসিসিআই ও সরকারী সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষ স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে, আমাদের ফ্লাইট কোলম্বোতে বুক করা আছে এবং আমরা সেখানে যাব।” বাকি সব ব্যবস্থা দল নিজেই সমন্বয় করবে।
দুটি দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গত বছর এশিয়া কাপের পর নতুন মোড় নিয়েছে। সেই টুর্নামেন্টে ভারত এ খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক বা শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে বিরত ছিল, যা মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সুর্যকুমার যাদব এই পরিস্থিতি উল্লেখ করে, এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচে ভারত এ ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং জয় অর্জন করে গর্ব প্রকাশ করেছেন।
এই ম্যাচটি ফেব্রুয়ারি ৭ থেকে মার্চ ৮ পর্যন্ত চলা টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান ইভেন্ট হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। তবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উভয় দলে এখনো চূড়ান্ত ফিক্সচার নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও, প্রস্তুতি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা অগ্রসর রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ভারত এ ও পাকিস্তান উভয়ই কোলম্বোতে নির্ধারিত ম্যাচের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। সরকারী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও, উভয় দলে ক্যাপ্টেনের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ফিক্সচার নিশ্চিত হলে তারা মাঠে নামবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইসিসি, বিসিসিআই এবং সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থাগুলি সমন্বয় করে ম্যাচের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



