19 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন

বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন

বৃহস্পতিবার, সুনামগঞ্জ‑২ (দিরাই‑শাল্লা) আসনের নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফেসবুকের মাধ্যমে প্রাক্তন পার্লামেন্টারিয়ান ও মুক্তিযোদ্ধা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে স্মরণ করলেন। বিএনপি প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী এবং জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির উভয়েই পোস্টে তার রাজনৈতিক অবদানকে তুলে ধরে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

দুই প্রার্থীই দিরাই‑শাল্লা এলাকার ঐতিহাসিক সমন্বয়ে সেনগুপ্তের ভূমিকা উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে তার প্রতিষ্ঠিত ঐক্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এই ধরনের স্মরণীয় বার্তা স্থানীয় ভোটারদের কাছে তার স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিশির মনিরের ‘শিশির মনির মিডিয়া সেল’ ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে সেনগুপ্তের জন্মতারিখ ৫ মে ১৯৪৫, আনোয়ারপুর গ্রাম, দিরাই উপজেলা এবং মৃত্যুর তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টে তাকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান’ হিসেবে চিহ্নিত করে, তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।

মো. নাছির চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টে সেনগুপ্তকে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি সেনগুপ্তের আত্মার শান্তি প্রার্থনা করার পাশাপাশি, এই আসনে বহুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কথা উল্লেখ করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী সমাবেশে সেনগুপ্তের নাম ব্যবহার করে দিরাই‑শাল্লা এলাকার ঐতিহ্যবাহী সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। উভয়েই উল্লেখ করেছেন যে, সেনগুপ্তের সময়ে গড়ে ওঠা পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে অব্যাহত রাখা তাদের দায়িত্ব।

২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শিশির মনিরের নির্বাচনী সমাবেশে তিনি সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে, যার মধ্যে মো. নাছির চৌধুরীও অন্তর্ভুক্ত, বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। এই উদ্যোগকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংলাপের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যু ২০১৭ সালে ঘটার পর, তার স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে পুনরায় জয়লাভ করেন। তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এখনও দিরাই‑শাল্লা অঞ্চলে শক্তিশালী প্রভাব বজায় রেখেছে।

বর্তমানে সুনামগঞ্জ‑২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী, যিনি পূর্বে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, এবং জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির, যিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দুই প্রার্থীর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে স্মরণ করার প্রচেষ্টা কেবল ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা নয়, বরং আসনের ভোটারদের মধ্যে তার রাজনৈতিক নেটওয়ার্ককে সক্রিয় করে তুলতে একটি কৌশল। তার দীর্ঘমেয়াদী জনপ্রিয়তা ও উন্নয়নমূলক কাজের স্মৃতি নতুন প্রার্থীদের জন্য ভোটার বেস গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, সেনগুপ্তের মতো স্বীকৃত ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে পুরনো ভোটারদের সমর্থন জোরদার করা সম্ভব, পাশাপাশি নতুন প্রার্থীদের জন্য তার উত্তরাধিকারকে নিজের নীতির সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়। এই ধরনের স্মরণীয় কার্যক্রম আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

সুতরাং, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নবম মৃত্যুবার্ষিকী কেবল একটি স্মরণীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং দিরাই‑শাল্লা এলাকার রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে দুই প্রধান বিরোধী দলই তার ঐতিহ্যকে নিজেদের নির্বাচনী কৌশলের অংশ করে তুলেছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments