ইংল্যান্ড ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের শেষ দিনে, ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ ১১ জুন মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইংল্যান্ডের প্রস্তুতির সময়সূচি স্বাভাবিকের চেয়ে এক সপ্তাহ পিছিয়ে। এই দেরি সূচি ফিফার সম্প্রসারিত ৪৮ দলীয় ফরম্যাটের ফলে উদ্ভূত হয়েছে।
ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুচেল দলকে টুর্নামেন্টের শুরুর সঙ্গে যতটা সম্ভব নিকটবর্তী সময়ে প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে শাণিত করতে চান। তিনি ফ্লোরিডায় দলের প্রি-টুর্নামেন্ট প্রশিক্ষণ শিবিরের কাছাকাছি ৬ জুন ও ১০ জুন দুইটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচের অনুরোধ করেছেন। এই দুই তারিখই বিশ্বকাপের উদ্বোধনের ঠিক আগে, যা টিমের গতি ও সমন্বয় পরীক্ষা করার জন্য আদর্শ বলে বিবেচিত।
ফিফা নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল তার প্রথম টুর্নামেন্ট ম্যাচের পাঁচ দিন পূর্বে কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে পারে না। ফলে ১০ জুনের ম্যাচের জন্য শুধুমাত্র সেই দলগুলোই সম্ভাব্য, যাদের নিজস্ব ম্যাচ ১৬ বা ১৭ জুন নির্ধারিত আছে। এই শর্তে মার্চ মাসের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের দুই বিজয়ী দলও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ফা বর্তমানে বেশ কয়েকটি জাতীয় সমিতির সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং এই মাসের মধ্যে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ আশা করা হচ্ছে। সীমিত বিকল্পের মধ্যে যোগ্যতা অর্জনকারী নিউজিল্যান্ড এবং এখনও যোগ্যতা না পেয়েও শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত কোস্টা রিকা প্রধান প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। উভয় দেশই টুচেলের চাহিদা অনুযায়ী উচ্চ মানের প্রতিপক্ষ সরবরাহ করতে পারে বলে বিবেচিত।
টুচেলের অধীনে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি ম্যাচের গুণগত মান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। সর্বোচ্চ র্যাঙ্কের প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা গত গ্রীষ্মে নটিংহ্যামসে সেনোগাল (১৯তম র্যাঙ্ক)কে ৩-১ স্কোরে পরাজিত করেছিল। এছাড়া ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী সর্বোচ্চ র্যাঙ্কের দল যা তারা পরাজিত করেছে, তা হল ওয়েলস (৩০তম র্যাঙ্ক) যাকে তারা একসময় হারিয়েছিল।
উচ্চ মানের প্রতিপক্ষের অভাব টুচেল ও ফার জন্য প্রস্তুতি ম্যাচের গুরুত্বকে বাড়িয়ে তুলেছে। শক্তিশালী দলকে মুখোমুখি করে না হলে টুর্নামেন্টের তীব্রতা ও গতি অনুকরণ করা কঠিন হতে পারে।
ইংল্যান্ডের প্রশিক্ষণ শিবির ফ্লোরিডায় স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রথম বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ ৬ জুনের দিকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ম্যাচটি ১০ জুনের জন্য নির্ধারিত, তবে উপযুক্ত প্রতিপক্ষ নিশ্চিত না হলে তা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচের পর দলটি কাতারে যাত্রা করে, যেখানে ১৭ জুনের ক্রোয়েশিয়া মোকাবিলায় প্রস্তুত হবে।
বিস্তৃত ৪৮ দলীয় টুর্নামেন্ট ফরম্যাট এবং ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচের আগে মাত্র এক সপ্তাহের সময়সীমা ফা-কে লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে উপযুক্ত প্রতিপক্ষ খুঁজে পাওয়া এবং ফিফা নিয়ম মেনে চলা দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফা এই মাসের শেষে বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। নিশ্চিত প্রতিপক্ষের ঘোষণা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ নেবে।



