ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (BFI) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের চলচ্চিত্র ও উচ্চমানের টেলিভিশন উৎপাদনে ২০২৫ সালে মোট ব্যয় ৬.৮ বিলিয়ন পাউন্ড, যা প্রায় ৯.২ বিলিয়ন ডলার সমান। এই সংখ্যা গত বছর থেকে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে, রেকর্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
উৎপাদন ব্যয়ের বেশিরভাগ অংশ উচ্চমানের টিভি প্রকল্প থেকে এসেছে; এ ধরনের শো মোট ব্যয়ের ৫৯ শতাংশ গঠন করে এবং ২০২৪ সালের তুলনায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টেলিভিশন ধারাবাহিকতা ও সিরিজের চাহিদা বাড়ার ফলে এই সেক্টরটি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
চলচ্চিত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে ২.৮ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়েছে, যা পূর্ববছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি। এই পরিমাণ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বোচ্চ বার্ষিক ব্যয় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ফিচার ফিল্মের উৎপাদন বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রবাহ একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বহিরাগত বিনিয়োগের মাধ্যমে তৈরি চলচ্চিত্রের সংখ্যা ২০২৫ সালে ১৯৩টি হয়েছে, যার মোট ব্যয় ২.৫১ বিলিয়ন পাউন্ড। এই পরিমাণ ৫৮টি ফিচার ফিল্ম থেকে এসেছে এবং যুক্তরাজ্যের বিশ্বব্যাপী উৎপাদন হাব হিসেবে সুনামকে আরও দৃঢ় করেছে।
বিনিয়োগকৃত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হল এমেরাল্ড ফেনেল পরিচালিত ‘Wuthering Heights’, স্যাম মেন্ডেজের ‘The Beatles – A Four-Film Cinematic Event’, এবং ক্রেগ গিলেস্পির ‘Supergirl’। এছাড়াও রুসো ভাইদের ‘Avengers: Doomsday’ এবং মাইকেল বি. জর্ডানের ‘The Thomas Crown Affair’ যুক্তরাজ্যের শ্যুটিং লোকেশন ব্যবহার করেছে।
এই আন্তর্জাতিক প্রকল্পগুলো শুধুমাত্র আর্থিক প্রবাহই নয়, স্থানীয় কর্মশক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার উন্নয়নেও সহায়তা করেছে। স্থানীয় ক্যাস্ট ও ক্রুদের সঙ্গে কাজ করার ফলে দক্ষতা স্থানান্তর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বক্স অফিসের দিক থেকে ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের মোট আয় ৯৯৬.৮ মিলিয়ন পাউন্ড, যা প্রায় ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার সমান। এই পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ২০১৯ সালের পূর্ব-প্রসারিত স্তরের তুলনায় ২১ শতাংশ কম।
বক্স অফিসে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র ছিল ‘Minecraft Movie’, যা যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড উভয় বাজারে শীর্ষে অবস্থান করেছে। এই সফলতা দেখায় যে গেম-ভিত্তিক কন্টেন্টও বড় দর্শকসংখ্যা আকর্ষণ করতে সক্ষম।
শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে আরও বেশ কিছু যুক্তরাজ্যে শ্যুট করা চলচ্চিত্র, যেমন ‘Wicked: For Good’, ‘Bridget Jones: Mad About the Boy’, ‘Jurassic World Rebirth’, ‘Mission Impossible – The Final Reckoning’ এবং ‘The Fantastic Four: First Steps’। এসব চলচ্চিত্রের সাফল্য স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতার প্রমাণ।
স্বাধীন চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে, যুক্তরাজ্যের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য আয় অর্জন করেছে, যদিও সুনির্দিষ্ট শিরোনামগুলো প্রতিবেদনে সম্পূর্ণভাবে তালিকাভুক্ত হয়নি। এই ফলাফল দেশীয় সৃজনশীলতা ও বাজারের স্বীকৃতি নির্দেশ করে।
BFI উল্লেখ করেছে, উৎপাদন ব্যয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক অবদানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। বিনিয়োগকারী ও সৃজনশীল পেশাজীবীরা উভয়ই এই প্রবণতাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের চলচ্চিত্র ও টিভি শিল্পের ব্যয় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, উচ্চমানের টেলিভিশন ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের সমন্বয়ে। যদিও বক্স অফিস আয় এখনও ২০১৯ সালের স্তরের নিচে, তবে নতুন শিরোনাম ও আন্তর্জাতিক প্রকল্পের সফলতা শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্দেশ করে।



