ভ্যালভ স্টিম মেশিনের বিক্রয় শুরু করার পরিকল্পনা থেকে এখনো কিছুটা পিছিয়ে আছে; মেমরি ও স্টোরেজের ঘাটতি এই দেরির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোম্পানি প্রথমার্ধে বিক্রয় শুরু করার লক্ষ্য রাখলেও, নির্দিষ্ট লঞ্চ তারিখ ও দাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
স্টিম মেশিনের প্রাথমিক রিলিজ ২০২৬ সালের শুরুর দিকে নির্ধারিত ছিল। এ সময় এএমডি সিইও লিসা সু জানিয়েছিলেন যে শিপিং প্রক্রিয়া পথে রয়েছে এবং শীঘ্রই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে। তবে ভ্যালভের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এই সময়সূচি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ভ্যালভের অফিসিয়াল পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা এখনও প্রথমার্ধের মধ্যে বিক্রয় শুরু করার ইচ্ছা রাখে, তবে দাম ও লঞ্চের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণে অগ্রগতি ঘটেনি। কোম্পানি জানিয়েছে যে, উপাদানের সীমিত প্রাপ্যতা এবং বাড়তি মূল্যের কারণে শিপিং পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।
স্টিম মেশিনের পাশাপাশি, ভ্যালভের নতুন স্টিম ফ্রেম VR হেডসেট ও কন্ট্রোলারের লঞ্চও একই সময়ে বিলম্বিত হয়েছে। এই পণ্যগুলোর রিলিজ তারিখ এখনো অজানা, এবং দাম সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও বাকি রয়েছে।
দেরির প্রধান কারণ হিসেবে ভ্যালভ শিল্পব্যাপী মেমরি ও স্টোরেজের ঘাটতি উল্লেখ করেছে। স্টিম ডিভাইসের ঘোষণার পর থেকে এই ঘাটতি বাড়তে থাকে, যা উৎপাদন সময়সূচি ও খরচে প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শিল্পের দ্রুত বৃদ্ধি মেমরি চিপ ও হার্ড ড্রাইভের চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। AI সিস্টেমের প্রশিক্ষণ ও ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য বড় পরিমাণে উচ্চক্ষমতার চিপ প্রয়োজন, ফলে অন্যান্য সেক্টরের জন্য উপলব্ধ স্টক কমে গেছে।
এই চিপ ঘাটতি পিসি, স্মার্টফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের উৎপাদনেও প্রভাব ফেলেছে। ফলে ভ্যালভের মতো গেমিং হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারকদের জন্য উপাদান সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম ও লঞ্চ সময়সূচিতে পরিবর্তন আনে।
স্টিম মেশিন নিজেই একটি ছোট কিউব-আকৃতির গেমিং পিসি, যা সেমি-কাস্টম এএমডি সিপিইউ ও জিপিইউ দিয়ে চালিত। ভ্যালভের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই মেশিনের পারফরম্যান্স স্টিম ডেকের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি, এবং এটি FSR (ফিডেড সাপার রেজোলিউশন) ব্যবহার করে ৪কে রেজোলিউশন ও ৬০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে গেম চালাতে সক্ষম।
পরীক্ষা পর্যায়ে বেশিরভাগ স্টিম শিরোনাম এই সেটিংসে মসৃণভাবে চলেছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে কিছু গেমে আপস্কেলিং বেশি প্রয়োজন হয়েছে, এবং ১০৮০পি রেজোলিউশনে স্থিতিশীল ফ্রেম রেট বজায় রাখতে নিম্ন ফ্রেম রেটের দিকে স্যুইচ করা হতে পারে।
স্টিম মেশিনের আরেকটি সুবিধা হল ব্যবহারকারীর জন্য SSD ও মেমরি সহজে আপগ্রেড করার সুযোগ রাখা। ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ কাঠামো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, ব্যবহারকারী নিজেই স্টোরেজ বা র্যাম বাড়াতে পারেন, যা ভবিষ্যতে পারফরম্যান্স উন্নত করতে সহায়ক হবে।
ভ্যালভ উল্লেখ করেছে যে, উপাদানের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করবে। ব্যবহারকারীদের জন্য সর্বশেষ তথ্য শেয়ার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সঠিক সময়ে পণ্যটি কিনতে পারেন।
গেমারদের দৃষ্টিকোণ থেকে, স্টিম মেশিনের দেরি কিছুটা হতাশা সৃষ্টি করতে পারে, তবে একই সঙ্গে উচ্চ পারফরম্যান্সের গেমিং পিসি পাওয়ার সম্ভাবনা বজায় রাখে। দাম ও লঞ্চ তারিখের স্পষ্টতা না থাকলেও, ভ্যালভের আপডেটের অপেক্ষা গেমিং কমিউনিটিতে চলমান রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, মেমরি ও স্টোরেজের বিশ্বব্যাপী ঘাটতি, বিশেষ করে AI শিল্পের চাহিদা, ভ্যালভের স্টিম মেশিন ও সংশ্লিষ্ট VR পণ্যের লঞ্চে বাধা সৃষ্টি করেছে। কোম্পানি এখনও প্রথমার্ধে বিক্রয় শুরু করার লক্ষ্য রাখলেও, দাম ও নির্দিষ্ট লঞ্চ তারিখের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি। ভবিষ্যতে উপাদানের সরবরাহ স্থিতিশীল হলে, ভ্যালভের পরিকল্পনা অনুযায়ী পণ্যটি বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।



