22 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডিজিটাল দুর্বলতা সংস্কার না হলে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকিতে

ডিজিটাল দুর্বলতা সংস্কার না হলে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকিতে

টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নতুন নীতি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তা ঘাটতি ভবিষ্যৎ ভোটের স্বচ্ছতা ও জনবিশ্বাসকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এনআইডি ডেটাবেস, পোস্টাল ভোট, ফলাফল ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য ডিজিটাল সিস্টেমে কাঠামোগত ত্রুটি বিদ্যমান, যা নির্বাচনী কারচুপি সহজতর করতে পারে।

প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার ইনস্টিটিউটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় এবং মূল উদ্দেশ্য নির্বাচন কমিশনকে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সুপারিশ প্রদান করা। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এনআইডি তথ্যভান্ডার, ভোটার তালিকা, ফলাফল সংরক্ষণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে, ডিজিটাল টুলের মাধ্যমে ভোটের হেরফের সহজে সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, এনআইডি ডেটাবেসে প্রায় ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, যার মধ্যে ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর এবং বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত, তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রবেশের অনুমতি পায়। এই বিস্তৃত প্রবেশাধিকার তথ্যের অপব্যবহার এবং ফাঁসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যদি কোনো প্রার্থী বা তার দল এই ডেটাবেস থেকে অনুপস্থিত প্রবাসী বা মৃত ভোটারদের তালিকা বের করতে পারে, তবে তাদের নামে জাল ভোট দান করা সহজ হয়ে যাবে।

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের জন্য ব্যবহৃত টুলগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং পুরো সিস্টেমের অংশ। তাই এনআইডি তথ্যের নিরাপত্তা, ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন তথ্যভান্ডারের সুরক্ষা, এবং ডিজিটাল সিস্টেম সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা ও সতর্কতা বৃদ্ধি না করা হলে, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞের মতে, যদি এই দুর্বলতাগুলো সময়মতো সংস্কার না করা হয়, তবে পরবর্তী নির্বাচনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনবিশ্বাসের স্তর হ্রাস পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তথ্যভান্ডারের সুরক্ষা বাড়ানো এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা গড়ে তোলা জরুরি, নতুবা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা যাবে।

টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে এনআইডি ডেটাবেসে প্রবেশের অনুমতি সীমিত করা, তথ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর নীতি প্রণয়ন, এবং ডিজিটাল সিস্টেমের নিয়মিত অডিট চালানো। এছাড়া, ভোটারদের তথ্য সুরক্ষার জন্য প্রযুক্তিগত আপডেট এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই রকম কাঠামোগত দুর্বলতা নির্বাচন কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, কারণ তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোটার যাচাই, ফলাফল প্রকাশ এবং ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করার দায়িত্বে রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা ও ফলাফলের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

অধিকন্তু, প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে যে, ডিজিটাল টুলের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার আক্রমণ, ডেটা চুরি এবং তথ্যের বিকৃতি ঘটার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং দুর্বলতা দূর করা।

সারসংক্ষেপে, টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নীতি প্রতিবেদনটি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ডিজিটাল দিকের ঝুঁকি উন্মোচন করেছে এবং তা সমাধানের জন্য স্পষ্ট সুপারিশ প্রদান করেছে। এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত না হলে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনবিশ্বাসের স্তর হ্রাস পাবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments