22 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিকদের টিনশেডে অগ্নিকাণ্ড, ৪০টি ঘর ধ্বংস

গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিকদের টিনশেডে অগ্নিকাণ্ড, ৪০টি ঘর ধ্বংস

গাজীপুরের শ্রীপুরে বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯টায় একটি টিনশেডে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় ৪০টি বসতঘর পুড়ে ধ্বংস হয়। ঘটনাস্থল ছিল মাওনা উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া, যেখানে খোকন মিয়ার মালিকানাধীন টিনশেডগুলো গার্মেন্টস শ্রমিকদের ভাড়া দেওয়া ছিল। ঐ সময় অধিকাংশ শ্রমিক কর্মস্থলে থাকায় কোনো প্রাণহানি রেকর্ড করা যায়নি, তবে ঘরগুলোতে বসবাসকারী পরিবারগুলো সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

সকাল ৯টার দিকে এক ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন আশেপাশের টিন ও কাঠের গঠনযুক্ত শেডগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। টিনশেডের হালকা গঠন এবং কাঠের ছাদ দ্রুত অগ্নি বিস্তার ঘটায়, ফলে এক ঘন্টারও কম সময়ে প্রায় চল্লিশটি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা জানান, তাদের ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণের গহনা এবং মূল্যবান কাপড়চোপড় সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গিয়েছে। কিছু ঘরে রাইস কুকারে ভাত গরম করা থাকায়, প্রাথমিক তদন্তে ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিটকে আগুনের মূল সূত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। ঘরগুলোর মালিক খোকন মিয়া উল্লেখ করেন, “একটি শেডে রাইস কুকারে ভাত রাখা ছিল, যা সম্ভবত বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে শিখা ধরেছে।”

মাওনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার খাইরুল আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দুইটি ফায়ার ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টা কাজের পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রাথমিকভাবে ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিটই আগুনের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে সম্পূর্ণ তদন্ত চলমান।”

স্থানীয় পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। গাজীপুরের গৌরবপুর থানা থেকে তদন্তকারী দল অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাবে এবং সংশ্লিষ্ট টিনশেডের নির্মাণ মান ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন আছে কিনা তা যাচাই করবে। প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, টিনশেডগুলোতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রায় চল্লিশটি পরিবার বাসস্থল হারিয়েছে, যা তাদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থায় বড় ধাক্কা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও মাওনা ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাময়িক আশ্রয় ও মৌলিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ বাসস্থল নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। যদি শেডের নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক সংযোগে নিরাপত্তা মানদণ্ড লঙ্ঘন করা পাওয়া যায়, তবে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হতে পারে। বর্তমানে গাজীপুরের গৌরবপুর থানা ও মাওনা ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে তদন্ত চলমান, এবং ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন পুনরায় এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে।

এই ঘটনার পর গার্মেন্টস শ্রমিকদের বাসস্থল নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। শ্রমিক ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে, শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষিত ও স্বাস্থ্যের দিক থেকে উপযুক্ত বাসস্থান নিশ্চিত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমে। সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় দ্রুত পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শীঘ্রই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments