22 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবিশ্ববাজারে স্বর্ণ, রুপা, তেল ও তামার দামে তীব্র পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ, রুপা, তেল ও তামার দামে তীব্র পতন

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে স্বর্ণ, রুপা, অপরিশোধিত তেল এবং তামাসহ কয়েকটি মূল পণ্যের দামে একসঙ্গে উল্লেখযোগ্য হ্রাস রেকর্ড করা হয়। রোইটার্সের তথ্য অনুযায়ী, একদিনের মধ্যে রুপার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যায়, আর স্বর্ণ, তেল ও তামার দাম গড়ে প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পায়। এই পতনের পেছনে প্রধানত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার হ্রাস এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী গতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক ফোনালাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র‑ইরানের সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বাজারে আশাবাদী সুর তৈরি করেছে। উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা তেল বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির প্রিমিয়াম কমিয়ে দেয়, ফলে তেলের দামে চাপ কমে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনালাপ বাণিজ্য উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় পণ্যবাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ডলারে নির্ধারিত হওয়ায়, ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য এই পণ্যগুলো তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। ফলে স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদে চাহিদা হ্রাস পায়, যা দামের পতনে সহায়তা করে।

আইজি ব্রোকারেজের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য পণ্যের দামে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা গিয়েছে এবং সাম্প্রতিক দরপতন সেই অস্থিরতারই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা তেলের বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম কমিয়ে দেয়, ফলে তেলের দামের নিম্নগামী প্রবণতা ত্বরান্বিত হয়।

সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ফেডারেল রিজার্ভ (ফেডারেল রিজার্ভ) চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শের নাম উল্লেখের ফলে কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কা বাড়ে। এই প্রত্যাশা ডলারকে আরও শক্তিশালী করে এবং স্বর্ণ ও রুপার মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। ফলে বিনিয়োগকারীরা উচ্চ দামে স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা তোলার দিকে ঝুঁকেন।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে এশীয় বাজারে ডলার প্রথমে স্থিতিশীল থাকলেও পরে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ডলারের এই উত্থান পণ্যের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে যখন বাজারে ঝুঁকি হ্রাসের প্রত্যাশা বাড়ে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ওমানে বৈঠকে বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস পায়। এই উন্নয়ন তেল বাজারে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম কমিয়ে দেয় এবং তেলের দামের নিম্নগামী প্রবণতাকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে, ডলারের শক্তি বজায় থাকায় স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা হ্রাস পায়।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যাওয়ায় বাজারে সতর্কতা বজায় থাকবে। ডলার শক্তিশালী থাকলে পণ্যদামের পতন অব্যাহত থাকতে পারে, আর কোনো নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বা মুদ্রানীতির পরিবর্তন না হলে স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনরায় উর্ধ্বগামী হতে সময় লাগতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলারের গতি ও ভূ-রাজনৈতিক বিকাশের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments