দুবাইতে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানো এক যুবক, শহরের রোবোটিক পরিবহন নেটওয়ার্কের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে নজরে এসেছে। দুবাই রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (RTA) কর্তৃক চালু করা স্বচালিত ট্যাক্সি সেবা, এখন দৈনন্দিন যাতায়াতের অংশ হয়ে উঠেছে এবং আগামী বছরগুলোতে এর পরিসর ব্যাপকভাবে বাড়বে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে শহরের মোট যাত্রার এক চতুর্থাংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা।
প্রথম পর্যায়ে ১০০টি স্বচালিত ট্যাক্সি চালু করা হলেও, পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সংখ্যা শীঘ্রই ১,০০০ অতিক্রম করবে। স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলোকে শহরের রাস্তায় একত্রে চালু করার মাধ্যমে ট্রাফিক জ্যাম কমানো, যাত্রীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত প্রভাব হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমান পর্যায়ে এই গাড়িগুলোকে রাইড‑হেইলিং অ্যাপের মাধ্যমে বুক করা যায় এবং যাত্রীদের নির্ধারিত গন্তব্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে দেয়।
গাড়ি চালানোর পাশাপাশি দুবাই শহর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করছে। AI‑ভিত্তিক সিগন্যাল কন্ট্রোল সিস্টেম রিয়েল‑টাইম ডেটা বিশ্লেষণ করে ট্রাফিক প্রবাহকে অপ্টিমাইজ করে, ফলে গাড়ির গতি বাড়ে এবং গাড়ি বন্ধ হয়ে থাকা সময় কমে। একই সঙ্গে, দূষণ কমাতে ক্লিন‑এনার্জি বাস চালু করা হয়েছে, যা বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে শহরের পরিবহন জালকে আরও টেকসই করে তুলছে।
এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলো দুবাইয়ের দীর্ঘমেয়াদী স্মার্ট সিটি ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্বচালিত ট্যাক্সি ও AI‑নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক সিস্টেমের সংযোজন শহরের অবকাঠামোকে আধুনিক করে তুলছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক পরিবহন বিকল্প সরবরাহ করছে। তদুপরি, ড্রাইভারবিহীন গাড়ির ব্যবহার জ্বালানি দক্ষতা বাড়িয়ে গড়ে তোলা গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে সহায়তা করবে।
দুবাই রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এই প্রকল্পের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছে এবং বিশ্বব্যাপী স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রযুক্তি বিকাশকারী সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। এই সহযোগিতা গাড়ির নিরাপত্তা মান, সফটওয়্যার আপডেট এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রোটোকলকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে। ফলে, ব্যবহারকারীরা উচ্চ মানের সেবা পেতে সক্ষম হয় এবং গাড়িগুলো দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে।
যুবরাজের মতো ব্যবহারকারীরা স্বচালিত গাড়িতে ভ্রমণ করে শহরের আধুনিকতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছেন। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা তাকে সময় সাশ্রয় এবং রুট পরিকল্পনা সহজ করার সুযোগ দেয়, পাশাপাশি রাইড‑শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরিবহন খরচ কমায়। এই সুবিধাগুলো শহরের বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে, যেখানে নিরাপত্তা, গতি এবং পরিবেশগত দায়িত্ব একসঙ্গে বিবেচিত হয়।
ভবিষ্যতে স্বচালিত ট্যাক্সি ফ্লিটের আকার বাড়িয়ে অন্যান্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, রেল, মেট্রো এবং বাসের সঙ্গে একীভূত টিকিটিং সিস্টেমের মাধ্যমে যাত্রীদের একক পাসে বহু পরিবহন মাধ্যম ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া, AI‑চালিত ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টকে আরও উন্নত করে রিয়েল‑টাইম রুট অপ্টিমাইজেশন এবং জরুরি সেবার দ্রুত প্রবেশ নিশ্চিত করা হবে।
সারসংক্ষেপে, দুবাইতে স্বচালিত গাড়ি ও AI‑ভিত্তিক ট্রাফিক সমাধানগুলো শহরের পরিবহন কাঠামোকে রূপান্তরিত করছে। ২০২৬ সালের বর্তমান পর্যায়ে ১০০টি গাড়ি দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প, শীঘ্রই হাজারেরও বেশি গাড়ি চালু করে শহরের মোট যাত্রার এক চতুর্থাংশ স্বয়ংক্রিয় করবে। এই পরিবর্তন কেবল যাত্রীদের সুবিধা বাড়াবে না, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, ট্রাফিক জ্যাম হ্রাস এবং নিরাপত্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



