গুগল-স্বত্বাধীন ইউটিউবের ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর, কোম্পানি জানিয়েছে যে সাবস্ক্রিপশন ও বিজ্ঞাপন থেকে আয় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। ত্রৈমাসিকের শেষ দিনগুলোতে ইউটিউবের আর্থিক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গুগল ও ইউটিউব প্রিমিয়াম সমন্বিত পেইড ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৩২৫ মিলিয়ন, যা তিন মাস আগে প্রকাশিত ৩০০ মিলিয়নের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধি মূলত গুগল ওয়ান এবং ইউটিউব প্রিমিয়াম দুটো সেবার সমন্বয়ে ঘটেছে, যা গ্রাহকদের অতিরিক্ত স্টোরেজ ও বিজ্ঞাপনমুক্ত ভিডিও অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয় ত্রৈমাসিকে ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এই সংখ্যা পূর্বাভাসের $১১.৮৪ বিলিয়ন থেকে কিছুটা কম, তবু ধারাবাহিক বৃদ্ধির প্রবণতা বজায় রয়েছে। বিজ্ঞাপন আয় বৃদ্ধির মূল কারণ হল শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপনদাতাদের সাথে চুক্তি ও নতুন ফরম্যাটের গ্রহণযোগ্যতা।
বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন উভয়ই মিলিয়ে পুরো আর্থিক বছরে ইউটিউবের মোট আয় $৬০ বিলিয়ন হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই বৃদ্ধি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী আয় মডেলকে শক্তিশালী করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
ইউটিউবের $৮ মাসিক বিজ্ঞাপনমুক্ত প্রিমিয়াম স্তরটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভাল সাড়া পেয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। প্রিমিয়াম সেবার চাহিদা বাড়ার ফলে ইউটিউবের ভবিষ্যৎ আয় কাঠামোতে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ইউটিউব প্রিমিয়াম সেবারও একই সময়ে শক্তিশালী বৃদ্ধি দেখা গেছে। ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপনমুক্ত ভিডিও, অফলাইন ডাউনলোড এবং অডিও স্ট্রিমিং সুবিধা পেয়ে এই সেবার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে। এই প্রবণতা ইউটিউবের সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক আয়কে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।
গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই ভবিষ্যতে সাবস্ক্রিপশন পোর্টফোলিও বিস্তারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে ইউটিউব টিভি ব্যবহারকারী ভিত্তির বৃদ্ধি উল্লেখ করে, এই সেবা থেকে অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।
পিচাই উল্লেখ করেছেন যে শীঘ্রই ইউটিউব টিভির জন্য নতুন পরিকল্পনা চালু হবে, যেখানে দশের বেশি জেনার-নির্দিষ্ট প্যাকেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের বেশি বিকল্প ও নমনীয়তা প্রদান করা হবে। এই কৌশলটি টিভি স্ট্রিমিং বাজারে ইউটিউবের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখে।
ইউটিউব শোর্টসের দৈনিক গড় ভিউ সংখ্যা ত্রৈমাসিকে ২০০ বিলিয়ন রেকর্ড করেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের সমান। তবে কিছু দেশে শোর্টসের বিজ্ঞাপন প্রতি ঘন্টা আয় ইন-স্ট্রিম বিজ্ঞাপনের তুলনায় বেশি, যা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও ফরম্যাটের বিজ্ঞাপনমূল্য বাড়িয়ে তুলেছে।
পিচাই পডকাস্টকে একটি উর্ধ্বমুখী ফরম্যাট হিসেবে উল্লেখ করে, অক্টোবর মাসে টিভি স্ক্রিনে পডকাস্ট দেখার সময় ৭০০ মিলিয়ন ঘণ্টা পৌঁছেছে। এই সংখ্যা পডকাস্টের ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টে রূপান্তরকে নির্দেশ করে এবং ইউটিউবের মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট কৌশলে নতুন দিক যোগ করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সৃষ্টিকর্তা টুলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে; বর্তমানে এক মিলিয়নের বেশি চ্যানেল এই AI টুল ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরি করছে। AI ফিচারগুলো ভিডিও এডিটিং, থাম্বনেইল তৈরি এবং স্বয়ংক্রিয় সাবটাইটেল জেনারেশনে সহায়তা করে, যা নির্মাতাদের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
ডিসেম্বরে গেমিনি চালিত কন্টেন্ট ডিসকভারি টুলের ব্যবহারকারী সংখ্যা ২০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগতকৃত ভিডিও সুপারিশে সহায়তা করে। এই টুলের জনপ্রিয়তা ইউটিউবের ব্যবহারকারী ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক পৌঁছানোর সুযোগ বাড়িয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ইউটিউবের সাবস্ক্রিপশন ও বিজ্ঞাপন আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি, শোর্টস ও পডকাস্টের নতুন ফরম্যাটে সাফল্য, এবং AI টুলের ব্যাপক গ্রহণ কোম্পানির ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তবে বিজ্ঞাপন আয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে কম ফলাফল বাজারের সতর্কতা নির্দেশ করে, যা পরবর্তী ত্রৈমাসিকে কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করতে পারে।



