19 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাদশটি ব্যবসা সংস্থা চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধে তাত্ক্ষণিক সমাধান দাবি

দশটি ব্যবসা সংস্থা চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধে তাত্ক্ষণিক সমাধান দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে চলমান বন্ধের ফলে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির অবস্থায় রয়েছে। আজ ঢাকা শহরের গুলশান এলাকায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (BTMA) এর অফিসে দশটি প্রধান ব্যবসা চেম্বার ও ট্রেড সংস্থা সমবেত হয়ে সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়। বন্দরের বন্ধের ফলে রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে থেমে গেছে, যা দেশের বাণিজ্যিক সঞ্চালনে বিশাল বাধা সৃষ্টি করেছে।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রপ্তানি ও আমদানি জাহাজ থেকে পণ্য লোড বা আনলোড করা হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মোট বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিচালনা করে, তাই এই বন্ধের প্রভাব সমগ্র অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর প্রধান থামার স্থান, তাই এর বন্ধের ফলে কন্টেইনার চলাচল, তেল ও গ্যাসের সরবরাহসহ বহু সেক্টরে প্রভাব পড়ছে।

সমাবেশে উপস্থিত নেতারা যৌথ বিবৃতি পাঠ করে এবং সরকারের হস্তক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিবৃতিটি বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (BEF), মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI), বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য, বাংলাদেশ নিটওয়্যার উৎপাদক ও রফতানিকার (BKMEA), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (BTMA) ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI) একত্রে জারি করেছে। বিবৃতি পাঠের সময় উপস্থিত ব্যবসা নেতারা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেছিলেন, যাতে বাণিজ্যিক ক্ষতি সীমিত রাখা যায়।

বিবৃতিতে আরও চারটি সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়েছে; সেগুলো হল বাংলাদেশ শিল্প চেম্বার, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGAPMEA) এবং বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল ও লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BTTLMEA)। এই সংস্থাগুলো দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতের বৃহত্তম স্বার্থসংশ্লিষ্ট, তাই তাদের সম্মিলিত আহ্বান নীতি নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসা নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং বন্ধকে বৃহৎ বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেন। উভয় আমদানি ও রপ্তানি জাহাজ থেকে পণ্য মুক্তি না পাওয়ায় বাণিজ্যিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে থেমে গেছে। বাণিজ্যিক প্রবাহের সম্পূর্ণ বন্ধকে তারা দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য এক গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবার যখন সব জাহাজ একসাথে বন্দর থেকে অচল অবস্থায় রয়েছে। সংস্থাগুলো জোর দিয়ে বলেছে, এটি কোনো সাধারণ ধর্মঘট নয়; বরং দেশের বাণিজ্যিক হৃদয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন এক ধ্বংসাত্মক অবস্থা। এই ধরনের সম্পূর্ণ বন্ধের ফলে বন্দর কর্মী, শিপিং কোম্পানি, লজিস্টিক সেবা প্রদানকারী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের কর্মসংস্থানেও সরাসরি প্রভাব পড়বে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এক দিনের বন্ধই দেশের অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করতে পারে। এই ক্ষতি সরাসরি রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের ওপর প্রভাব ফেলবে। এই আর্থিক ক্ষতি রপ্তানি আয়ের হ্রাস, আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক ঋণবহুলতার ঝুঁকি বাড়াবে।

বিশেষ করে গার্মেন্ট শিল্প, যা দেশের প্রধান রপ্তানি আয় হিসেবে কাজ করে, বর্তমানে অপরিবর্তনীয় ক্ষতির মুখে। রপ্তানিযোগ্য পণ্য সময়মতো পাঠানো যাচ্ছে না, আর আমদানি পণ্যও সঠিক সময়ে পৌঁছাচ্ছে না। গার্মেন্টসের পাশাপাশি চা, জুট, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি পণ্যের রপ্তানিও বিলম্বিত হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে আরও কমিয়ে দেবে।

সংস্থাগুলো সরকারকে আহ্বান জানায় যে, দ্রুত সমাধান না হলে বাণিজ্যিক ক্ষতি বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়বে। তারা দাবি করে, বন্দর বন্ধের মূল কারণ চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। সরকারের দায়িত্ব হল বন্দর পরিচালনা সংস্থা ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমাধান প্রদান করা।

এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় সরকারী দপ্তর থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা সমাধানের সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি। তবে বাণিজ্যিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা স্পষ্ট: চট্টগ্রাম বন্দরকে

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments