ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার সকালে উপসাগরীয় জলসীমায় দুইটি বিদেশি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। জাহাজগুলোকে জ্বালানি পাচার সন্দেহে থামানো হয় এবং মোট ১০ লাখ লিটারের বেশি পেট্রোল ও ডিজেল আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত ট্যাঙ্কারগুলোর ক্রুদের মধ্যে ১৫ জন বিদেশি নাবিক অন্তর্ভুক্ত, যাদের আইআরজিসি ইরানি বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সেই দিন সকালবেলা ইরানের সামরিক বাহিনী উপকূলীয় জলে গতি সনাক্ত করে এবং অবিলম্বে ট্যাঙ্কার দু’টি থামায়। জাহাজগুলোতে থাকা জ্বালানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, যা ইরানের দাবি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন এবং তেল পাচারের সরাসরি প্রমাণ। তবে ট্যাঙ্কারগুলোর জাতীয় পতাকা বা ক্রুদের দেশীয় পরিচয় সম্পর্কে তৎক্ষণাৎ কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই জব্দের পেছনে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থার দাবি যে, জাহাজগুলো অবৈধভাবে ইরানের জ্বালানি বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করছিল। আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে, জাহাজগুলোতে থাকা জ্বালানি দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি হলে তা সরকারী তেল দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং অর্থনৈতিক সংকটকে তীব্র করতে পারে।
ইরানের এই পদক্ষেপটি মার্কিন সরকারের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝেও ঘটেছে। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে জ্বালানি ও জীবনের মূল্যের বৃদ্ধি বিরোধে বিশাল প্রতিবাদ শুরু হয়, যা দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, এমন দাবি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা প্রকাশ করেছে।
মার্কিন সরকারের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের পারমাণবিক চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা এবং তেহরানের গৃহযুদ্ধের পরিণতি নিয়ে উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে একটি নৌবহর পাঠিয়েছে। এই নৌবহরটি উপসাগরে উপস্থিতি ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ডকে তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।
ট্যাঙ্কার জব্দের ফলে উপসাগরের বাণিজ্যিক শিপিং রুটে অস্থায়ী অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্কতা অবলম্বন করে রুট পরিবর্তন বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে, ইরানের তেল রপ্তানি ও আমদানি নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন আঞ্চলিক বাজারে দোলন সৃষ্টি করতে পারে।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, ইরানের এই পদক্ষেপটি কেবল জ্বালানি পাচার দমনই নয়, বরং মার্কিন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে সমর্থন জোগাড়ের একটি কৌশল। তিনি বলেন, যদি ইরান জাহাজগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে আটক রাখে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিরোধের নতুন পর্যায়ে প্রবেশের ইঙ্গিত হতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ইরান ও মার্কিন সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে, অথবা ইরানের সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত জাহাজ জব্দের সম্ভাবনা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুপাক্ষিক সংলাপ এবং ন্যাভি উপস্থিতি সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি। এই পরিস্থিতি কিভাবে বিকশিত হবে তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক নমনীয়তা এবং আঞ্চলিক শক্তির সমন্বয়শীলতার ওপর।



