দিল্লি হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার রাজপাল যাদবের আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত শেষ আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, ফলে অভিনেতা তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানানো হয়েছে। আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন, তবে বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মার নেতৃত্বে বেঞ্চ কোনো আরেকটি মেয়াদ প্রদান করেনি।
বেঞ্চের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করা হয়েছে যে যাদবের আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি শোনার কোনো সুযোগ থাকবে না। পূর্বে বুধবার আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তা পালন না করার কারণে আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
যাদবের সিনিয়র অ্যাডভোকেট অভিজাত আদালতে জানিয়েছিলেন যে একই দিনে ২৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হবে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী পরিশোধ পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে বেঞ্চ এই প্রস্তাবটি বিবেচনা না করে জোর দিয়ে বলেছে যে পূর্বে ইতিমধ্যে যথেষ্ট রেহাই দেওয়া হয়েছে এবং যাদব আদালতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই মামলার মূল শিকড় মে ২০২৪-এ একটি চেক বাউন্স মামলায় রয়েছে, যেখানে সেশন আদালত যাদবকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। হাইকোর্ট পরে শর্তসাপেক্ষে শাস্তি স্থগিত করে, যাদবকে অভিযোগকারী মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা করার নির্দেশ দেয়। তবে সমঝোতা পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, যেহেতু যাদব নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধে অক্ষম ছিলেন।
২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট যাদবকে দুই দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার আদেশ দেয়, কারণ তিনি দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে একটি পুরনো ডিমান্ড ড্রাফ্টে টাইপো থাকার দাবি করেন। আদালত উল্লেখ করে যে যাদব সেই ত্রুটি সংশোধনের কোনো পদক্ষেপ নেননি এবং অর্থ পরিশোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেননি।
বেঞ্চের সর্বশেষ প্রত্যাখ্যানের পর যাদবের আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন যে অভিনেতা আজই (বৃহস্পতিবার) তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করবেন। আত্মসমর্পণের পর তিনি ভবিষ্যতে অতিরিক্ত রিলিফের জন্য আবেদন করতে পারেন অথবা মামলাটির অন্যান্য দিক নিয়ে নতুন আবেদন দাখিল করতে পারেন।
আইনি প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে যে পূর্বে প্রদত্ত রেহাইয়ের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আরামদায়ক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যাদবকে শাস্তি কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে এবং পরবর্তীতে তিনি যদি কোনো সমঝোতা বা অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, তবে তা আদালতের অনুমোদনের অধীন থাকবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে চেক বাউন্স মামলায় আদালতের কঠোর মনোভাব পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে শাস্তি মুলতুবি রেখে সমঝোতা করার সুযোগ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত না হলে শাস্তি কার্যকর করা হবে। যাদবের আত্মসমর্পণ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলো কিভাবে গতি পাবে, তা পরবর্তী শুনানিতে স্পষ্ট হবে।



