বাংলা একাডেমী সংগঠিত মাসব্যাপী “অমর একুশে বই মেলা” এই বছর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে উদ্বোধন করবে। প্রকাশনা সংস্থা, লেখক ও পাঠক একত্রে অংশগ্রহণের জন্য শ্রীমুতি মুনীর চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আজকের সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মেমোরিয়াল কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা উল্লেখ করেন, একুশে বই মেলা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে এই বছর ফেব্রুয়ারি ১ তারিখে শুরু করা সম্ভব হয়নি। বাস্তবিক বাধার কারণে সূচি পরিবর্তন করে ২০ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্টল ভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা প্রকাশনা সংস্থার আর্থিক চাপ কমাতে এবং অংশগ্রহণ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় মেলাটি শীঘ্রই উদ্বোধনের পথে।
সরকারি অনুমোদনে সোহরাওয়ার্ডি উদ্যানকে মেলাটির প্রধান স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে স্টল নির্মাণ কাজ চলছে এবং আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
গত বছর মোট ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল। এ বছরের আবেদনকারীর সংখ্যা ৫৩, যার মধ্যে ২৪টি নতুন সংস্থাকে স্টল বরাদ্দ করা হয়েছে। স্থান সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি নতুন আবেদনকারীদের স্টল প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশক সমিতি মেলাটি ঈদের পর পর্যন্ত টালার অনুরোধ করে। ড. রেজা ব্যাখ্যা করেন, এপ্রিল মাসে তীব্র গরম, ধূলিকণা ও কালবৈশাখি ঝড়ের সম্ভাবনা থাকে, যা এক মাসব্যাপী মেলার জন্য অনুকূল নয়। তাই সময়সূচি পরিবর্তন করা বাস্তবিক নয় বলে তিনি জানান।
তবুও প্রকাশকদেরকে মেলায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ মেলাটি দেশের পাঠ্য সংস্কৃতি ও বই ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ।
বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম রমজান মাসে মেলাটির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। ইফতার সময় খাবারের স্টল এবং পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। ত্রাওয়িহ নামাজের জন্যও উপযুক্ত স্থান গঠন করা হবে।
এই সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশক সমিতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সম্মেলন আয়োজন করে মেলাটি ঈদ-উল-ফিতরের পর অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি তুলে ধরেন। এছাড়া তারা তিনটি অতিরিক্ত দাবি উপস্থাপন করেন, যদিও সেসবের বিশদ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: মেলাটি ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ায় প্রথম সপ্তাহে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে হালকা থাকে। তাই বই কেনাকাটা, লেখক সেশন ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগের দিনই পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক হবে।



