22 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডিআরডব্লিউ ও টিআইবি যৌথভাবে প্রতিবন্ধী অধিকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানাল

ডিআরডব্লিউ ও টিআইবি যৌথভাবে প্রতিবন্ধী অধিকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানাল

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অফিসে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী অধিকার সংস্থা ডিআরডব্লিউ ও টিআইবি, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP) সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দের তাগিদ জানায়।

সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে যে ২০০৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ’ (UNCRPD) পরের বছর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে, যা দেশের আইন ও নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার ভিত্তি স্থাপন করে।

এই সনদের ধারাগুলোকে কার্যকর করতে ২০১৩ সালে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করা হয়, এবং ২০১৯ সালে ১৮টি কর্মক্ষেত্র ও ৩৫টি মন্ত্রণালয়ের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়।

NAP-এ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি ১৮টি মূল ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত, যেখানে প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের পর্যায়ে এখনো উল্লেখযোগ্য ফাঁক রয়ে গেছে।

ডিআরডব্লিউ ও টিআইবি জানায় যে, পরিকল্পনার কিছু ধাপ শুরু হলেও সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো অর্জিত হয়নি; ফলে বহু অধিকার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় প্রতিবন্ধী নাগরিকরা দৈনন্দিন জীবনে বাধার মুখোমুখি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বিশেষ শিক্ষা সুবিধা, কর্মসংস্থান কোটা এবং প্রবেশযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।

সংগঠনগুলো নির্বাচনের পূর্বে মূলধারার রাজনৈতিক দল, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ইন্টারন্যাশনাল সিভিল সোসাইটি (আইসিআর) এর কাছে বেশ কিছু নির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করেছে, যাতে নীতি‑নির্ধারকরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেন।

প্রথম দাবি হল জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সব ধাপ বাস্তবায়ন এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করা, যাতে পরিকল্পনার কার্যক্রম আর্থিকভাবে সমর্থিত হয়।

দ্বিতীয় দাবি অনুসারে ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জেলা, উপজেলা ও শহর স্তরের কমিটিগুলোর নিয়মিত সভা নিশ্চিত করা, এবং আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া।

তৃতীয় দাবি হল প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস’ (Rules of Business) নথিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা, যাতে পরিকল্পনার কার্যকরী নির্দেশনা পরিষ্কার হয় এবং বাস্তবায়ন সহজ হয়।

চতুর্থ দাবি অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সম্মিলিতভাবে কোটা ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা, যাতে কর্মসংস্থানের সমতা নিশ্চিত হয় এবং অন্তর্ভুক্তি বাড়ে।

পঞ্চম দাবি হল প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে একজন ডিস্যাবিলিটি ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা এবং পর্যবেক্ষণ কমিটির নিয়মিত সভা আয়োজনের মাধ্যমে পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা, যাতে দায়িত্বশীলতা বজায় থাকে।

সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মিডিয়াকে অনুরোধ করেছে যে, তারা এই দাবিগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করে এবং সরকারকে যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করুক, যাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

প্রতিবন্ধী অধিকার সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, যাতে ভোটারদের মধ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা যায় এবং ভবিষ্যতে নীতি‑নির্ধারকদের দায়িত্বশীল করা সম্ভব হয়।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments