22 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধএপস্টেইনের রাশিয়া গুপ্তচর অভিযোগে ক্রেমলিনের তীব্র প্রত্যাখ্যান

এপস্টেইনের রাশিয়া গুপ্তচর অভিযোগে ক্রেমলিনের তীব্র প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত হাজার হাজার নথি প্রকাশের পর, এপস্টেইন রাশিয়ার গোপন এজেন্ট ছিলেন এমন একটি নতুন অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এই দাবিটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, তবে রাশিয়ার সরকারী মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকার করে।

নথিগুলোতে এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেন, যৌন অপরাধের বিবরণ এবং তার আন্তর্জাতিক সংযোগের বিশদ বিবরণ রয়েছে। এই নথিগুলোর মধ্যে একাধিক পৃষ্ঠায় এপস্টেইন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে উল্লেখ আছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা দেখায় দুজনের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, “এই তত্ত্ব নিয়ে অনেক কৌতুক করার লোভ আছে, তবে সময় নষ্ট না করাই উত্তম”। পেসকভের এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাশিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এধরনের গুজবের কোনো ভিত্তি নেই।

পেসকভ আরও উল্লেখ করেন যে, এপস্টেইন ২০১৯ সালে যৌন অপরাধের মামলায় কারাগারে মারা যাওয়ার আগে ক্রেমলিনের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বা যোগাযোগের রেকর্ড নেই। তিনি বলেন, “এপস্টেইন থেকে ক্রেমলিন কোনো অনুরোধ পায়নি”। এই মন্তব্যটি এপস্টেইনের রাশিয়ান গোপন সেবা সংযোগের দাবিকে আরও কঠোরভাবে খণ্ডন করে।

এপস্টেইন ২০১৯ সালের আগস্টে নিউ ইয়র্কের মেট্রোডার্ক সেলফ-সেফটি সেন্টারে কারাবন্দি অবস্থায় আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর সময় তিনি যৌন পাচার ও মানব পাচার সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি ছিলেন। মৃত্যুর পরেও তার নেটওয়ার্ক এবং আর্থিক লেনদেনের তদন্ত চলমান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থাগুলি এপস্টেইনের নথিপত্র বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও নথি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এই নথিগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো গোপন সংযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তা আইনগতভাবে গুরুত্ব পাবে।

এদিকে, রাশিয়ার সরকারী দপ্তর থেকে এধরনের গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং কোনো প্রমাণবিহীন অভিযোগকে অবৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে। পেসকভের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, রাশিয়া এধরনের অযৌক্তিক তত্ত্বে সময় ব্যয় করতে চায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনের নেটওয়ার্কের মধ্যে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারী সংস্থা বা আদালত এপস্টেইনকে রাশিয়ার গোপন এজেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এপস্টেইনের নথিপত্রে উল্লেখিত রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্ভাব্য সংযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও স্বচ্ছতা দাবি করছেন। রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে, সব ধরনের গুজবকে অস্বীকার করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, এপস্টেইন রাশিয়ার গোপন সেবায় কাজ করেছিল এমন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি, এবং ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরও নথি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে, তবে রাশিয়ার সরকারী অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments