আজ নওগাঁ জেলার আতিম মাঠে জামাতের আমীর ড. শফিকুর রহমান একটি নির্বাচনী র্যালি পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। র্যালিটি নওগাঁ জেলার জামাতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গুরুত্ব পায়।
ড. শফিকুরের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি তার ধর্মের ভিত্তিতে ভয়ভীত হয়ে জীবনযাপন করা উচিত নয়; দেশটি সবারই, তাই সবাইকে একসাথে অগ্রসর হতে হবে এবং প্রত্যেকের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় সহনশীলতা ও ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
নারীর সুরক্ষার বিষয়েও তিনি দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি উল্লেখ করেন, নারীরা ঘর, কর্মস্থল ও জনস্থানে সম্মান ও সুরক্ষার অধিকারী, এবং কোনো দুষ্ট ব্যক্তি দেশের কন্যাদের দিকে চোখ তুলতে পারবে না। এ ধরনের পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের দায়িত্ব, তিনি বলেন।
দুর্নীতি ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। জামাতের শাসনামলে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সমর্থন না করা হবে এবং দেশের থেকে চুরি হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে, এটাই তার প্রতিশ্রুতি। তিনি অতীতে দেশের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সঠিক শাসন নিশ্চিত করার কথা বলেন।
নওগাঁকে দেশের প্রধান কৃষি জেলা হিসেবে তুলে ধরে, শফিকুর রহমান অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য প্রদান, গুদাম সুবিধা, ফল প্রক্রিয়াকরণ ও পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এছাড়া ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার কথা তিনি বলেন।
র্যালি পরিচালনা করেন নওগাঁ জেলা জামাতের আমীর ও নওগাঁ‑৪ নির্বাচনী প্রার্থী আব্দুর রাকিব। অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলা সেক্রেটারি, নওগাঁ‑৫ প্রার্থী এএসএম সায়েম, নওগাঁ‑১ থেকে নওগাঁ‑৬ পর্যন্ত প্রার্থীরা, পাশাপাশি ছাত্র ও যুব নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। সকল অংশগ্রহণকারী শফিকুরের পরিকল্পনা ও লক্ষ্যকে সমর্থন জানান।
এই র্যালি দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জামাতের নেতৃত্ব নির্বাচনী কৌশল ও ভোটার সংযোগের জন্য বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করছে। নওগাঁয়ের কৃষক ও নারীদের সমর্থন জোগাড়ের লক্ষ্যে এই ধরনের সমাবেশের গুরুত্ব বাড়ছে।
শফিকুরের ঘোষিত নীতি ও প্রতিশ্রুতি বিশেষ করে কৃষক ভোটার এবং নারীর ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ন্যায্য মূল্য ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কৃষকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে, আর নারীর সুরক্ষার কথা তাদের ভোটের প্রবণতা পরিবর্তন করতে পারে।
র্যালির শেষে ড. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জামাতের শাসনামলে ধর্মীয় বৈষম্য, নারীর নির্যাতন ও দুর্নীতি দূর করে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সবাইকে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন।
এই র্যালি জামাতের নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা, নারীর অধিকার ও কৃষক কল্যাণের বিষয়গুলোকে মূল মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে। র্যালির পরবর্তী ধাপ হিসেবে জামাতের অন্যান্য জেলা ও শহরে সমান ধরনের সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি আনতে পারে।



