বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের মূল্য গত বৃহস্পতিবার একদিনে সাত শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে $71,000‑এর নিচে নেমে এসেছে। এই পতনটি ট্রাম্পের ২০২৪ সালের পুনর্নির্বাচনের পর ধারাবাহিক এক সপ্তাহের উত্থানের পর এক তীব্র উল্টোফেরার সূচক।
বছরের শুরু থেকে বিটকয়েনের দাম প্রায় বিশ শতাংশ কমে গেছে, যা বাজারের সামগ্রিক মনোভাবের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে একবার $100,000‑এর মাইলফলক স্পর্শ করলেও, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে এসেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণে শিথিল নীতির প্রত্যাশা বাজারকে উত্সাহিত করেছিল। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “ক্রিপ্টোকারেন্সির রাজধানী” করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ জাগিয়েছিল।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তার দুই পুত্রের সঙ্গে “ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল” নামে একটি ক্রিপ্টো সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি একটি কৌশলগত ক্রিপ্টো রিজার্ভ গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যেখানে বিটকয়েনসহ আরও চারটি ডিজিটাল মুদ্রা অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানানো হয়।
তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা যে ক্রিপ্টো লেনদেন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিলটি সেনেটে পেশ করিয়েছিলেন, তা এখনো অনুমোদন পায়নি। ব্যাংক ও ক্রিপ্টো কোম্পানির মধ্যে মতবিরোধের ফলে বিলটি আটকে রয়েছে, যা পুরো শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজারের এই অনিশ্চয়তা সরাসরি বিটকয়েনের দামের পতনে প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা নিয়ন্ত্রক নীতির স্পষ্টতা না থাকলে ঝুঁকি কমাতে বিক্রয় চাপ বাড়িয়ে দেয়, ফলে দাম দ্রুত নিচের দিকে সরে যায়।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্রে স্পষ্ট ও স্থিতিশীল নিয়ন্ত্রক কাঠামো না গড়ে ওঠে, তবে বিটকয়েন ও অন্যান্য ক্রিপ্টো সম্পদের মূল্য আরও অস্থির হতে পারে। অন্যদিকে, যদি সরকার দ্রুত নীতি নির্ধারণ করে এবং শিল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে, তবে বাজারে পুনরায় আত্মবিশ্বাস ফিরে আসতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বিটকয়েনের সাম্প্রতিক মূল্য পতন ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর উত্থাপিত আশার বিপরীতে নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তার ফল। বাজারের দিকনির্দেশনা এখনো অস্থির, এবং ভবিষ্যতে মূল্য গতি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিপ্টো নীতি কীভাবে গঠন হবে তার ওপর।



