আইসিসি বৃহস্পতিবার সরকারী বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব ম্যাচ বাংলাদেশে সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার হবে। যদিও বাংলাদেশ দল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে না, তবু দেশের ভক্তরা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রিকেট উপভোগ করতে পারবেন।
স্থানীয় ক্রীড়া চ্যানেল টি স্পোর্টস এবং নাগরিক টিভি এই বছরের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের প্রধান টিভি পার্টনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। উভয় চ্যানেলই দেশের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা রাখে এবং ম্যাচের লাইভ কভারেজ নিশ্চিত করবে।
টেলিভিশন সম্প্রচারের পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বিপণন সংস্থা টোটাল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট (টিএসএম) বাংলাদেশে টুর্নামেন্টের মূল সম্প্রচার অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। টিএসএমের দায়িত্বে রয়েছে বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সমন্বয়, যা টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সেতু গড়ে তুলবে।
ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ভক্তদের জন্যও সমান সুযোগ রাখা হয়েছে। জনপ্রিয় অ্যাপ ও ওয়েবসাইট র্যাবিটহোলবিডি টুর্নামেন্টের সব ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং সরবরাহ করবে। ফলে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের মাধ্যমে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে ক্রিকেটের প্রতিটি ওভার দেখা সম্ভব হবে।
বিশ্বকাপের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে হবে, যা ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে। এক মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্টে মোট ৫৫টি ম্যাচের সূচি নির্ধারিত হয়েছে, যার মধ্যে গ্রুপ পর্যায়, সুপার ফাইভ এবং নকআউট রাউন্ড অন্তর্ভুক্ত।
টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ম্যাচ ৮ মার্চ নির্ধারিত হয়েছে। ফাইনাল গেমে শীর্ষ দুই দল মুখোমুখি হবে এবং বিজয়ী দেশকে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশের দল টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করার মূল কারণ ছিল ভারতের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব। এই বিরোধের ফলে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে অন্য একটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে যোগ করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক মাত্রা বাড়াবে এবং ভক্তদের জন্য নতুন রোমাঞ্চের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য এই সম্প্রচার ব্যবস্থা একটি বড় সুবিধা নিয়ে এসেছে। টিভি সেটের সামনে না থাকলেও, মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাই সংযোগের মাধ্যমে র্যাবিটহোলবিডি অ্যাপ ব্যবহার করে সহজে ম্যাচ দেখা সম্ভব হবে।
গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় যেখানে টেলিভিশন সংকেত দুর্বল, সেখানে ডিজিটাল স্ট্রিমিং বিশেষভাবে কার্যকর হবে। স্মার্টফোনের বিস্তৃত ব্যবহার এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের উন্নতির ফলে এখন প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমী রিয়েল-টাইমে খেলা অনুসরণ করতে পারবে।
টেলিভিশন ও ডিজিটাল উভয় মাধ্যমের সমন্বয় দর্শকদের পছন্দের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে ম্যাচ বাছাই করার সুযোগ দেয়। টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি উভয়ই একই সময়ে লাইভ কভারেজ প্রদান করবে, আর র্যাবিটহোলবিডি অতিরিক্ত রি-প্লে ও হাইলাইট ফিচার দিয়ে ভক্তদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে।
আইসিসি এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় যে, দেশের কোনো কোণায় বসে থাকা ভক্তই না কেন, তারা বিশ্বকাপের উত্তেজনা ও নাটকীয়তা সরাসরি অনুভব করতে পারবে। টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের সমন্বিত প্রচার পরিকল্পনা বাংলাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করবে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের দিন থেকে শেষ ফাইনাল পর্যন্ত, বাংলাদেশি ভক্তদের জন্য একটি সম্পূর্ণ এবং সহজলভ্য দেখার পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। এই ব্যবস্থা দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে।



