ক্লিনিক্যালভাবে টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ভারত‑ম্যাচ বয়কটের মুখোমুখি হতে বাধ্য করা হয়েছে, তবে দলীয় ক্যাপ্টেন সালমান আগা কলম্বোতে অনুষ্ঠিত অধিনায়কদের সম্মেলনে এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল না থাকা তার জন্য দুঃখের বিষয়, কারণ “বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই” এবং তাদের সমর্থনের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দল কৃতজ্ঞ।
সালমানের মতে, বাংলাদেশ না থাকা টুর্নামেন্টের রঙিনতা কমিয়ে দেয় এবং তারাও এই অনুপস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, “এটা দুঃখজনক যে তারা বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না।” এই কথাগুলো দলীয় মনোভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট দল গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোতে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।
ভারত‑ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে সালমান স্বীকার করেন, এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় সমর্থকরা হতাশ হতে পারেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই পদক্ষেপটি পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত এবং দল তা মান্য করবে। “এটা সরকারের সিদ্ধান্ত, আর আমরা সেটাকে সম্মান করি,” তিনি বলেন, “তারা যা বলবে, আমরা সেটাই করব।”
বয়কটের পরেও পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে গ্রুপ পর্যায়ে তিনটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। সালমান জানান, এই ম্যাচগুলো নিয়ে দল রোমাঞ্চিত এবং প্রস্তুত। তিনি যোগ করেন, “এগুলো নিয়ে আমরা রোমাঞ্চিত,” এবং উল্লেখ করেন যে দল এই সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করতে চায়।
যদি টুর্নামেন্টের নকআউট পর্যায়ে ভারত‑ম্যাচের সম্ভাবনা দেখা দেয়, সালমানের মতে, পাকিস্তানকে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। “যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে তাদের বিপক্ষে খেলতে হয়, তাহলে আমাদের সরকারের কাছে যেতে হবে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে,” তিনি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
পূর্ববর্তী টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ক্রিকেট দল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হারে গিয়েছিল, তবে সালমান এই পরাজয়কে অতীতের অংশ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আগের বিশ্বকাপে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরেছিলাম, কিন্তু সেটা এখন ইতিহাস।” নতুন টুর্নামেন্টে নতুন সংযোজন এবং নতুন কৌশল নিয়ে দলকে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
সালমানের মতে, এই বিশ্বকাপ তার ক্যাপ্টেনশিপের প্রথমবার এবং তিনি এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত। “অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার প্রথম বিশ্বকাপ, আর আমি খুবই রোমাঞ্চিত,” তিনি বলেন, এবং দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন। তিনি নিজের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেন, “অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে কীভাবে মেলে ধরব, সেটা ঠিক জানি না, তবে আমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই।”
খেলোয়াড় হিসেবে নিজের দায়িত্বও তিনি জোর দিয়ে বলেন। “খেলোয়াড় হিসেবে নিজের কাজ করতে চাই, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে নিতে চাই,” তিনি বলেন, এবং দলের মধ্যে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চান যেখানে প্রত্যেকের পারফরম্যান্সের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা প্রকাশ পায়।
সালমানের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে, তিন ঘণ্টা আগে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়কও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই আন্তর্জাতিক সমর্থন টুর্নামেন্টের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া দিকের জটিলতা সত্ত্বেও দলকে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল গ্রুপ ‘এ’ তে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দল এই প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে জয়লাভের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সালমানের নেতৃত্বে দলীয় মনোভাব ইতিবাচক। তিনি শেষ করে বলেন, “আমরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই, এবং দলকে এমন একটি আবহে রাখতে চাই যেখানে সবাই আত্মবিশ্বাসী ও উদ্যমী থাকে।”



