ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী সাবিনা জাবেদ ব্যানার ও ফেস্টুনের জন্য অর্থ প্রদান করা ব্যক্তির সময়মতো কাজ না করার অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি এক সপ্তাহ আগে টাকা দিয়ে কাজ করিয়ে নেন, তবে প্রথম ব্যক্তি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্যকে নিয়োগ করতে বাধ্য হন। এই বিলম্বের ফলে তার প্রচারাভিযান শুরুতেই কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।
সাবিনা জাবেদ ঢাকা-১৮ আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী এবং তিনি আম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ভোটারদের কাছ থেকে “আপা আপনাকেই ভোট দেব” এমন মন্তব্য শোনার পর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বোধ করছেন।
বাসদের প্রার্থী সৈয়দ হারুন-অর-রশীদও একই সময়ে তার প্রচার সামগ্রী নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র দু-একজনই সহায়তা করেছেন। কোনো সহযোদ্ধা বা বন্ধু তার পাশে না থাকায়, শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের দুই মেয়ের কাছ থেকে তহবিল নিয়ে কিছু ব্যানার টাঙিয়েছেন।
সৈয়দ হারুন-অর-রশীদের মতে, ভোটাররা এমন প্রার্থীর সন্ধান করছেন যিনি তাদের মতই, তবে তার প্রচার ও সমর্থক নেটওয়ার্কের অভাবে তিনি আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ভোটাররা বলছে, আপনার মতো লোককেই আমরা খুঁজছি, কিন্তু আপনার প্রচার ও লোকজন নেই।”
ঢাকা-১৮ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১, ১৭, ৪৩‑৫৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই এলাকায় উত্তরার ১৪টি সেক্টর, দলিপাড়া, বাউনিয়া, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, ডুমনি, খিলক্ষেত ও কুড়িল অন্তর্ভুক্ত। মোট ভোটার সংখ্যা ৬,১৩,৮৪১। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট দশজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তিনি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শাপলা কলি প্রতীক ব্যবহার করছেন।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (কেটলি প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আনোয়ার হোসেন (হাতপাখা প্রতীক) এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত। সকল প্রার্থীই নিজ নিজ প্রতীক ও দলীয় সংযুক্তি দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
প্রচার সামগ্রী সরবরাহে বিলম্বের ফলে সাবিনা জাবেদের প্রচার পরিকল্পনা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে তিনি ভোটারদের সমর্থন নিয়ে আশাবাদী রয়ে গেছেন। অন্যদিকে, সৈয়দ হারুন-অর-রশীদের আর্থিক সংগ্রহের সমস্যার ফলে তার প্রচার কার্যক্রম সীমিত হয়েছে, যা তার ভোটার ভিত্তি গড়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই দুই প্রার্থীর সমস্যার পাশাপাশি, অন্যান্য দশজন প্রার্থীরও প্রচারাভিযান চলমান। আসনের ভোটার সংখ্যা বিশাল হওয়ায় প্রতিটি প্রার্থীর জন্য কার্যকরী প্রচার ও সমর্থন গঠন করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে কিভাবে প্রার্থীরা তাদের প্রতীক, দলীয় সমর্থন ও ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন তার ওপর।
আসন্ন নির্বাচনের আগে সকল প্রার্থীই তাদের প্রচার কৌশল পুনর্বিবেচনা করে সময়মতো ব্যানার, ফেস্টুন ও অন্যান্য প্রচার সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিতে পারেন। ভোটারদের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকরী যোগাযোগ গড়ে তোলা হলে নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারিত হতে পারে।



