বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে স্বর্ণ, রুপা, তেল ও তামার দাম তীব্রভাবে নেমে আসে, যা চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ফোনালাপের পর গ্লোবাল ঝুঁকি কমে যাওয়া এবং ইরান‑মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পায়, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি‑অফ মনোভাবকে ত্বরান্বিত করে।
স্পট স্বর্ণের দাম ২.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স $4,838.81-এ নেমে আসে, আর এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারস ১.৯ শতাংশ কমে $4,855.60-এ লেনদেন হয়। ডলার সূচকের উর্ধ্বগতি এবং ঝুঁকি‑অফ প্রবণতা স্বর্ণের দামকে নিচের দিকে ঠেলে দেয়।
রুপা বাজারে সবচেয়ে বড় পতন দেখা যায়; একদিনে রুপার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে $74.94 প্রতি আউন্সে নেমে আসে, যেখানে স্পট রুপার দাম একদিনে ১৪.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে একই স্তরে পৌঁছায়। রুপার এই তীব্র পতন স্বর্ণের তুলনায় বেশি তীব্রতা প্রকাশ করে।
গত সপ্তাহে রুপার দাম $121.64 প্রতি আউন্সে এবং স্বর্ণের দাম রেকর্ড $5,594.82 প্রতি আউন্সে পৌঁছেছিল, যা বর্তমান হ্রাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ ছিল। এই শীর্ষমূল্যগুলো বাজারের সাম্প্রতিক উত্থান-পতনের প্রেক্ষাপট প্রদান করে।
কাঁচা তেলের দামও প্রায় ২ শতাংশ কমে, কারণ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওমানে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে যায়। তেলের দাম হ্রাসে এই কূটনৈতিক অগ্রগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত গুদামগুলোর মজুতে বৃদ্ধি পাওয়ার খবর এবং চীনের কৌশলগত তামা মজু বাড়ানোর পরিকল্পনা পূর্বে দামকে সাময়িকভাবে স্থিতিশীল রাখলেও, বর্তমান মজু বৃদ্ধির তথ্য রুপার বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। তামার দামে চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং মজু বৃদ্ধির সংমিশ্রণ দামকে নিচের দিকে ঠেলে দেয়।
সয়াবিনের ক্ষেত্রে বিপরীত প্রবণতা দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যের পর, যেখানে তিনি চীনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনের ক্রয় বাড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করতে বলেছিলেন, সয়াবিনের দাম দুই মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। এই মূল্যবৃদ্ধি চীন‑মার্কিন বাণিজ্যের সম্ভাব্য পুনরুজ্জীবনকে ইঙ্গিত করে।
সামগ্রিকভাবে, কূটনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস এবং মজু তথ্যের প্রকাশ বাজারে ঝুঁকি‑অফ মনোভাবকে শক্তিশালী করেছে, ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারে রূপান্তরিত হয়েছে এবং ধাতু ও তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে ডলারের শক্তি স্বল্পমেয়াদে পণ্যদামের উপর চাপ বজায় রাখবে, এবং ইরান‑মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অগ্রগতি যদি স্থিতিশীল থাকে তবে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কোনো নতুন উত্তেজনা বা নীতি পরিবর্তন দ্রুত বাজারকে উল্টে দিতে পারে।
বাজারের অংশগ্রহণকারীদের জন্য পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি তথ্য এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে, যা স্বর্ণ, রুপা, তেল ও তামার দামের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।



