লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রাপ্ত ছয়টি ভোট সিলের ঘটনা প্রকাশের পর লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদ উর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে ডেইলি স্টার ভবনে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সিলের সঙ্গে কি ভোট পেপার বা তার কোনো সফট কপি রয়েছে কিনা।
বৈঠকের আয়োজক বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) ‘ভোট কারচুপি রোধে নাগরিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ’ শিরোনামে আলোচনা পরিচালনা করে। জাহিদ উর রহমান উল্লেখ করেন, সফট কপি না থাকলে সিল কেন পাওয়া সম্ভব, এ বিষয়টি তিনি অ্যালার্মিং বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, সফট কপি কোনো না কোনোভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা পরে দ্রুত প্রিন্ট করে ব্যবহার করা যাবে। এ ধরনের প্রক্রিয়া নির্বাচনের ফলাফলকে নির্দিষ্ট দিকে প্রভাবিত করতে পারে, এ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জাহিদ উর রহমানের মতে, এই ঘটনা কেবল স্থানীয় কোনো নেতার কাজ নাও হতে পারে; বরং এটি বৃহত্তর কোনো পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, এমন ধারণা তিনি তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কৌশল পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান।
গত মঙ্গলবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেস থেকে ছয়টি অবৈধ ভোট সিল, একটি কম্পিউটার এবং একটি মোবাইল ফোনসহ সোহেল রানা গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি প্রেসের মালিকের স্বীকারোক্তি অনুসারে কাজ করছিল।
সোহেল রানা আদালতে জানান, এই সিলগুলি জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফের নির্দেশে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি এই তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেন, যা তদন্তের নতুন দিক উন্মোচন করে।
জাহিদ উর রহমানের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। তিনি শেয়ার করেন, শীখ হাসিনা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা বজায় রাখতে নির্বাচনের বাইরে থাকতে চেয়েছেন, ফলে তিনি ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছেন।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, শীখ হাসিনার থেকে বিচ্ছিন্ন দলগুলোই এখন ভোটে অংশ নিচ্ছে, তবে সাধারণ জনগণের মধ্যে এখনও নির্বাচনের প্রতি আস্থা হ্রাস পেয়েছে।
‘ভাল নির্বাচন, সংস্কার’ চাওয়া দলগুলোর উপস্থিতি সত্ত্বেও নাগরিকরা নিশ্চিত নয় যে নির্বাচনের মান উন্নত হবে কিনা, জাহিদ উর রহমান এ বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এই ঘটনার পর নির্বাচনী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি বিষয়টি তদন্তের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সফট কপি সত্যিই বিদ্যমান হয় এবং সিলের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তা ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা বাড়বে। তাই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলছে। জামায়াত-এ-ইসলামি নেতাদের নির্দেশে সিল তৈরি হওয়ার অভিযোগের পর দলটি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযোগের মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানাতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, লক্ষ্মীপুরে সিল উদ্ধার এবং সফট কপি সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



