বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভোট গণনার নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো ফলাফল জানার আইনগত বা কারিগরি সুযোগ নেই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টাল ভোটের ফলাফল সম্পর্কে ভ্রান্ত তথ্য ও অপ্রমাণিত দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে শেয়ার করা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ইসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পোস্টাল ব্যালটের গণনা নির্বাচনের দিন বিকেল সাড়ে চারটার পরে, সাধারণ ভোটের সঙ্গে সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হবে। এই সময়ে সব ব্যালট একসাথে গোনা হবে, ফলে পোস্টাল ভোটের ফলাফল অন্য কোনো সময়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
কমিশন আরও জোর দিয়ে বলেছে, নির্ধারিত সময়ের পূর্বে পোস্টাল ভোটের ফলাফল জানার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং কোনো প্রযুক্তিগত পদ্ধতিও এই তথ্য আগাম প্রকাশে সক্ষম নয়। তাই গুজব হিসেবে প্রচারিত যে কোনো আগাম ফলাফল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
জনসাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে, সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া অপ্রমাণিত তথ্যের প্রতি সতর্ক থাকতে এবং এমন গুজবের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে না আসতে। ভোটের ফলাফল সম্পর্কে সঠিক তথ্য শুধুমাত্র নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে প্রকাশিত হবে।
এই গুজবের মোকাবিলায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাইবার মনিটরিং টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সন্দেহজনক পোস্ট, মিথ্যা তথ্য শেয়ারকারী অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তথ্যের বিকৃতি রোধ করা যায়।
পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থাপনা বিশেষভাবে সরকারি কর্মচারী ও বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য নির্ধারিত। যারা নির্বাচনের দিন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেন না, অথবা বিদেশে বসবাসের কারণে সরাসরি ভোট দিতে পারেন না, তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।
এই পোস্টাল ব্যালটগুলো নির্বাচনের শেষ ধাপে, সাধারণ ভোটের সঙ্গে মিলিতভাবে গণনা করা হবে এবং চূড়ান্ত ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলে পোস্টাল ভোটের প্রভাব ফলাফলের ওপর সমানভাবে প্রতিফলিত হবে।
কমিশন উল্লেখ করেছে, আগাম ফলাফল প্রচার করা নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করতে পারে এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই গুজবের বিস্তার রোধে সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ থাকে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ভোট গণনা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সম্পন্ন হবে এবং ফলাফল যাচাই‑পরীক্ষার পর সর্বজনীনভাবে প্রকাশ করা হবে। ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কোনো অনুমান বা গুজবের ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিতে।



