ঢাকা, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রতি করা শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্তে ভারত এ কিছু পণ্যের উপর শুল্কমুক্তি প্রদান করা হয়েছে। এই নীতি পরিবর্তন সরাসরি বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কমুক্তি মূলত ভারত এ উৎপাদিত নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য, যা পূর্বে উচ্চ শুল্কের আওতায় ছিল। শুল্কের এই হ্রাস ভারত এ পণ্যের মূল্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে কমিয়ে তুলবে, ফলে একই সেগমেন্টে বাংলাদেশের পণ্যের তুলনায় মূল্যগত সুবিধা পেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, দেশের রপ্তানি আয় প্রধানত পোশাক, টেক্সটাইল এবং চামড়া পণ্যের উপর নির্ভরশীল। এই পণ্যগুলোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ক্রয়কারী, তাই শুল্ক পরিবর্তন সরাসরি রপ্তানি প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
শুল্কমুক্তির ফলে ভারত এ উৎপাদিত একই ধরণের পণ্যগুলো মার্কিন বাজারে কম দামে প্রবেশ করতে পারবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য মূল্যসংবেদনশীল বাজারে চাপ বাড়াবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য এই পরিবর্তন চ্যালেঞ্জের স্বরূপ।
বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানি প্রবাহের উপর নজরদারি বাড়াতে অতিরিক্ত তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, রপ্তানি প্রবণতা ও মূল্য পরিবর্তন রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে নীতি নির্ধারকদের সময়মত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে।
স্থানীয় শিল্প সমিতি এই শুল্ক পরিবর্তনকে ‘অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং সরকারকে দ্রুত সমন্বয়মূলক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সমিতি দাবি করে যে, রপ্তানিকারকদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বাজার বৈচিত্র্যকরণ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, রপ্তানিকারকরা উচ্চ মানের পণ্য ও ব্র্যান্ডিংয়ে জোর দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় রাখতে পারে। পাশাপাশি, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে রপ্তানি দিক পরিবর্তন করা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বে চীনকে লক্ষ্য করে আরোপিত শুল্ক নীতি, বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, কারণ তা চীনা পণ্যের তুলনায় বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়িয়েছিল। তবে এখন শুল্কমুক্তি ভারত এ পণ্যের জন্য একই সুবিধা প্রদান করে, যা বাজারের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
সাম্প্রতিক রপ্তানি তথ্য দেখায় যে, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত রপ্তানি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে রপ্তানি মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে শুল্ক পরিবর্তনের ফলে এই প্রবণতা স্থবির বা হ্রাস পেতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, শুল্কমুক্তি যদি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে, তবে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে শেয়ার হ্রাস পেতে পারে। তাই রপ্তানি কৌশল পুনর্বিবেচনা এবং উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ জরুরি।
বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠান রপ্তানি শিল্পকে সমর্থন করার জন্য প্রযুক্তি আপগ্রেড, দক্ষ শ্রমশক্তি প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়তা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ছাড়ে ভারত এ রপ্তানি বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এখন রপ্তানি প্রবাহের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে কাজ করবে।



