বোলিউডের অভিজ্ঞ অভিনেতা সানি ডিওলের মুখ্য ভূমিকায় আসা গাব্রু চলচ্চিত্রের মুক্তি পরিকল্পনা পরিবর্তিত হয়েছে। মূলত ১৩ই মার্চ থিয়েটারে আসার কথা ছিল, তবে এখন পর্যন্ত নতুন তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। এই পরিবর্তনটি চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও বিতরণকারী সংস্থার সিদ্ধান্তের ফলাফল।
গাব্রু প্রথমবারের মতো নভেম্বর ২০২৫-এ বোলিউড হাঙ্গামা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সানি ডিওলের সঙ্গে সালমান খানকে বিশেষ উপস্থিতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সালমান খান ছবিতে প্রায় এক বছর আগে শুটিং সম্পন্ন করে তিনটি দৃশ্যে উপস্থিত হয়েছেন, যা চলচ্চিত্রের গল্পে আবেগপূর্ণ ও বিনোদনমূলক ছোঁয়া যোগায়। তার এই অংশটি দীর্ঘমেয়াদী ক্যামেরা উপস্থিতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
চলচ্চিত্রের পরিচালনা কাজ শশাঙ্ক উদাপুরকারের তত্ত্বাবধানে চলছে, আর উৎপাদন দায়িত্বে রয়েছেন বিশাল রানা। উভয়ই পূর্বে সফল প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা গাব্রুর গুণগত মানকে সমর্থন করে। ছবির শুটিং সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে কাজ চলছে।
মার্চ মাসে রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রবেশের ফলে দর্শকের উপস্থিতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রমজানের সময় ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুসরণকারী দর্শকগণ সিনেমা হল থেকে দূরে থাকতে পারেন, যা টিকিট বিক্রিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রযোজকরা এমন সময় বেছে নিতে চান যখন বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠী সিনেমা হলে আসতে পারে।
একই সময়ে ১৯ই মার্চ ধুরন্ধর: দ্য রেভেঞ্জ এবং টক্সিক ছবিগুলি একসাথে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে। এই দুই চলচ্চিত্রের প্রত্যাশিত দর্শকসংখ্যা গাব্রুর জন্য প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং, গাব্রুর মুক্তি তারিখ পুনঃনির্ধারণের পেছনে এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের প্রভাব থাকতে পারে।
গাব্রুর পাশাপাশি, আয়ুষ্মান খুরানা, সারা আলি খান, ওয়ামিকা গ্যাবি এবং রাকুল প্রীত সিংহের সঙ্গে যুক্ত পতি পত্নি এবং ওহ দু’টি চলচ্চিত্রের মুক্তি তারিখও পরিবর্তিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি মূলত ৪ই মার্চ থিয়েটারে আসার কথা ছিল, তবে এখন পর্যন্ত নতুন সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি। একাধিক বড় চলচ্চিত্রের সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ায় এই মাসে সিনেমা হলের প্রোগ্রামিং জটিল হয়ে উঠেছে।
বিনোদন শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, গাব্রুর মতো বড় নামের উপস্থিতি থাকা চলচ্চিত্রের জন্য সঠিক মুক্তি সময় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সানি ডিওল ও সালমান খান দুজনেরই ভক্তবৃন্দ বিশাল, তাই তাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রযোজকরা নতুন তারিখ নির্ধারণের আগে বাজারের চাহিদা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।
গাব্রুর মুক্তি মুলতুবি হওয়ার খবরটি চলচ্চিত্র প্রেমিক ও শিল্পের অভ্যন্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেক দর্শক ইতিমধ্যে টিকিট বুকিং করে রেখেছেন, ফলে পুনঃনির্ধারিত তারিখে টিকিটের চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, থিয়েটার মালিকদেরও নতুন শিডিউল তৈরি করতে হবে, যা তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
প্রযোজকরা শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নতুন মুক্তি তারিখ জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে দর্শক ও মিডিয়া উভয়ই স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাবে। তদুপরি, নতুন তারিখের সাথে সমন্বয় করে প্রচারমূলক কার্যক্রমও পুনরায় চালু হবে।
গাব্রু চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা এখনো উচ্চ, কারণ এতে সানি ডিওলের শক্তিশালী অভিনয় এবং সালমান খানের হৃদয়স্পর্শী ক্যামেরা উপস্থিতি রয়েছে। উভয়ই তাদের নিজস্ব ভক্তগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম, যা ছবির বক্স অফিস সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করে। তবে রমজান ও অন্যান্য বড় চলচ্চিত্রের সঙ্গে সমন্বয় না হলে প্রথম সপ্তাহের টিকিট বিক্রি সীমিত থাকতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, গাব্রুর মুক্তি মুলতুবি হওয়া চলচ্চিত্র শিল্পের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও বাজারের গতিবিদ্যার একটি উদাহরণ। নতুন তারিখ নির্ধারণের পর দর্শকরা আবার সিনেমা হলের আসন দখল করতে পারবে, এবং শিল্পের অন্যান্য প্রকল্পগুলিও তাদের নিজস্ব সময়সূচি অনুসারে চলবে। এই পরিবর্তনটি শেষ পর্যন্ত দর্শকের সুবিধা ও বাণিজ্যিক সাফল্য উভয়ই নিশ্চিত করতে লক্ষ্য রাখবে।



