বৃহস্পতিবার লোয়ার হাউসে বিরোধী নেতা রাহুল গাঁধি এক গোপন স্মৃতিপুস্তকের অংশ উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেন, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান জেনারেল এম.এম. নারাভানের অপ্রকাশিত বই ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’। এই পদক্ষেপের ফলে সংসদে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হয়।
গাঁধি পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর সেশনে বইটির কিছু পৃষ্ঠা হাতে নিয়ে পাঠ করার সময় বহুবার বাধা পান এবং তার বক্তব্য কেটে দেওয়া হয়। পরে তিনি উল্লেখ করেন যে, স্মৃতিপুস্তকে লেখা আছে চীনা ট্যাঙ্কগুলো যখন ভারতীয় অবস্থানে অগ্রসর হয়, তখন নারাভানকে “যা যুক্তিযুক্ত মনে হয় তা করার” নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ বইটি ২০২৪ সাল থেকে সরকারী অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এখনো প্রকাশিত হয়নি। প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের সঙ্গে এই ম্যানুস্ক্রিপ্টের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
বইটির উল্লেখিত ঘটনাটি ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘটিত সীমান্ত সংঘর্ষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। গ্রীষ্মকালে ভারত ও চীন হিমালয়ীয় সীমান্তে সামরিক মুখোমুখি হয়, যা ১৯৭৫ সালের পর প্রথম প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নেয়।
সেই সংঘাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশজন সৈন্য এবং চীনা বাহিনীর অন্তত চারজন সৈন্য প্রাণ হারায়। এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে বহুবার কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমে যায়, এবং ২০২৪ সালে সীমান্তে বিচ্ছিন্নতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বিজেপি পার্টি, যা নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে, গাঁধির এই কাজকে ভারতীয় সৈন্যদের অবমাননা এবং সংসদীয় নিয়ম লঙ্ঘন বলে অভিযুক্ত করে। পার্টি দাবি করে যে, অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি নেওয়া সংসদে অনুচিত এবং তা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন উত্থাপন করে।
গাঁধি যখন বইয়ের অংশ পাঠ করার চেষ্টা করেন, তখন তিনি ধারাবাহিকভাবে বাধা পান এবং তার বক্তব্য কেটে দেওয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, চীনা ট্যাঙ্কের অগ্রগতি সম্পর্কে স্মৃতিপুস্তকে যে বিবরণ আছে তা সরকারী নীতি ও নির্দেশনার ঘাটতি নির্দেশ করে।
বইটির কিছু অংশ প্রথমবারের মতো দ্য ক্যারাভান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়, যেখানে একটি প্রবন্ধে অপ্রকাশিত ম্যানুস্ক্রিপ্টের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রকাশের পর স্মৃতিপুস্তকটি জনমত ও মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বিবিসি এই ম্যানুস্ক্রিপ্টের মূল কপি দেখেনি এবং তাই উদ্ধৃতির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে তারা নারাভান ও পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করেছে।
এখনও পর্যন্ত জেনারেল এম.এম. নারাভান এই বিতর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। তার পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যা বিষয়টি আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিষয়টি সংসদে আলোচনার থামিয়ে দেয় এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী কিরেন রিজি বিষয়টি নিয়ে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের সম্ভাবনা নির্দেশ করেছেন, এবং ভবিষ্যতে ম্যানুস্ক্রিপ্টের অনুমোদন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশিত।



