ঢাকা শহরের পুরন কাঠেরপুল এলাকায় অবস্থিত একটি ভোটকেন্দ্র থেকে পুলিশ ১৫২টি ক্রিকেট স্ট্যাম্প বাজে হাতে পাওয়া যায়। ঘটনাটি গত রাতের গভীর সময়ে ঘটেছে, যখন স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় ফোন করে সন্দেহজনক অস্ত্র সংরক্ষণ সম্পর্কে জানায়। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে অভিযান চালানো হয়।
সোর্সাপুর থানার পরিদর্শক মোহাইমিনুল ইসলাম জানান, কাঠেরপুলের কসমোপলিটন স্কুলের নিচতলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত ব্যবহার করা হয় এবং নির্বাচনের দিন এটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, স্কুলের ভবনে দেশীয় অস্ত্র মজুদ করা আছে বলে তারা উদ্বিগ্ন ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
কসমোপলিটন স্কুলের ভবনটি একাধিক তলা বিশিষ্ট এবং সাধারণত শিক্ষার পাশাপাশি ভোটের সময় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে স্থানীয় অভিযোগে দেখা যায়, কিছুদিন আগে সেখানে অস্ত্র সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ লালবাগ বিভাগের স্পেশাল ইউনিটকে অভিযানে যুক্ত করা হয়।
অভিযানটি রাত একটার পর শুরু হয়, যেখানে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দলটি স্কুলের সব তলা পরিদর্শন করে। তদারকি করা দলটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রেখে, কোনো বাধা না পেয়ে স্ট্যাম্পগুলো সংগ্রহ করে। স্ট্যাম্পগুলোকে প্রমাণের জন্য নিরাপদে প্যাকেজ করা হয়।
পুলিশের মতে, উদ্ধারকৃত ১৫২টি স্ট্যাম্পের কোনো বৈধ ব্যবহার না থাকায় তা অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। স্ট্যাম্পগুলোকে পরে সরাসরি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য আলাদা করে রাখা হয়। কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা না গেলেও, তদন্ত চলমান রয়েছে।
মোহাইমিনুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, স্ট্যাম্পের মালিকানা ও সংরক্ষণ সম্পর্কে স্কুলের মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। ভবনের মালিককে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন এসব স্ট্যাম্পের ব্যবহার কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোর্সাপুর থানার ওসি মতিউর রহমানের মতে, নির্বাচনের দিন এই স্ট্যাম্পগুলো ব্যবহার করে কোনো অনুপযুক্ত কাজের সম্ভাবনা ছিল না। তিনি বলেন, স্ট্যাম্পের উপস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না, তবে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হলে তা অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অভিযানের পর, স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে স্ট্যাম্পগুলোকে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে কোনো অননুমোদিত ব্যবহার রোধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। মামলাটি বর্তমানে আইনি দিক থেকে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
পুলিশের মতে, স্ট্যাম্পগুলোকে অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা এবং তা ভোটের প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকলে তা নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। তাই তদন্তের অংশ হিসেবে স্ট্যাম্পের উৎপত্তি ও মালিকানা যাচাই করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করে, ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ভবনগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে পুরন ঢাকার ঐতিহাসিক এলাকায় এমন ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করা হবে।
অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায়, ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশের সতর্কতা প্রশংসিত হয়েছে। তবে স্ট্যাম্পের মতো সামগ্রী সংরক্ষণে ঘাটতি থাকলে তা ভবিষ্যতে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, এ কথা কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ট্যাম্পগুলোকে এখনো ফরেনসিক বিশ্লেষণের অধীনে রাখা হয়েছে এবং ফলাফল জানার পরই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে তথ্য প্রকাশ করা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের অবৈধ সংরক্ষণ রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।
অবশেষে, পুলিশ ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ একত্রে কাজ করে নিশ্চিত করেছে যে, ভোটের দিন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে।



