মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইনের যৌন পাচার সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গেটস এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। এই প্রকাশনা ৪ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনের মামলায় সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশ করেছে। নথিগুলোতে বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ও তাদের সঙ্গে যুক্ত তথ্য উঠে এসেছে, ফলে বিভিন্ন দেশে তদন্তের ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এই নথিগুলোর মধ্যে গেটসের নামও উল্লেখিত, যা মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিল গেটস সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য তিনি গভীর অনুতাপ অনুভব করছেন এবং তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এপস্টেইনের থেকে প্রাপ্ত একটি ই‑মেইল কখনো পাঠানো হয়নি এবং সেটি মিথ্যা। গেটস বলেন, তিনি এপস্টেইনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত নন, তবে সম্ভবত এপস্টেইন তাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করছিল।
গেটসের মতে, প্রথমবার তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে ২০১১ সালে দেখা করেন। এরপরের তিন বছরে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কয়েকটি ডিনারে অংশ নেন, তবে কখনো এপস্টেইনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপে যাননি এবং কোনো নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেননি। গেটস এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে, তার সঙ্গে এপস্টেইনের কোনো অবৈধ সংযোগ নেই বলে জোর দেন।
মেলিন্ডা গেটস, গেটসের প্রাক্তন স্ত্রী, এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গেটসের এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং তার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি আছে। মেলিন্ডা গেটসের এই মন্তব্য গেটসের প্রকাশিত ক্ষমা প্রকাশের সঙ্গে সমান্তরালভাবে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৩০ জানুয়ারি নতুন নথি প্রকাশের পর একটি খসড়া ই‑মেইল প্রকাশ করে, যেখানে এপস্টেইন গেটসের সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্কের অভিযোগ তুলে। এপস্টেইনের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গেটস তাকে মাদক সরবরাহে সহায়তা করেছেন এবং রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরিণতি মোকাবিলায় সাহায্য করেছেন। গেটস এই সব অভিযোগকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গেটসের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে বলা হচ্ছে, এপস্টেইনের দ্বারা উত্থাপিত যে কোনো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এবং কোনো প্রমাণের অভাব রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার সঙ্গে এপস্টেইনের কোনো অবৈধ কার্যক্রমের সংযোগ নেই এবং তিনি সবসময়ই তার স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন।
বৈশ্বিক পর্যায়ে এপস্টেইনের নথি প্রকাশের ফলে বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও এই নথিগুলোর ভিত্তিতে অতিরিক্ত তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে। গেটসের সঙ্গে যুক্ত কোনো আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে তা জনসাধারণের নজরে আসবে।
সারসংক্ষেপে, গেটস এপস্টেইনের সঙ্গে তার অতীত সংযোগের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং একই সঙ্গে এপস্টেইনের দ্বারা উত্থাপিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মেলিন্ডা গেটসের প্রশ্ন এবং নতুন প্রকাশিত নথি এই বিষয়কে আরও জটিল করে তুলেছে, ফলে ভবিষ্যতে আরও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।



