দিল্লি উচ্চতর অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২ (আইসিটি‑২) গত সপ্তাহে একটি অপরাধবিরোধী মামলায় প্রাক্তন আওয়ামী লীগ আইনসভা সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।
সেই দণ্ডের ভিত্তি হল জুলাই ২০২৪-এ ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় সংঘটিত উত্থানকালে সাতজনের মৃত্যু, যার মধ্যে পাঁচজনের দেহ দাহের পর মৃত পাওয়া গিয়েছিল এবং একজনকে জীবিত অবস্থায়ই অগ্নিকাণ্ডে জ্বালানো হয়েছিল।
আইসিটি‑২ এই রায়টি অপরাধবিরোধী আইনের অধীনে প্রথমবারের মতো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে প্রদান করেছে; পূর্বে আইসিটি‑১ থেকে দুইটি রায়ই শোনানো হয়েছে।
মামলায় মোট ষোলোজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; তাদের মধ্যে অর্ধেকই বর্তমানে গ্রেফতার অবস্থায় এবং বাকি অর্ধেক পলায়ন করেছে।
পলায়নকারী আটজনের মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, প্রাক্তন ঢাকা রেঞ্জ ডি.আই.জি. নুরুল ইসলাম, প্রাক্তন ঢাকা সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ মো. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রাক্তন আশুলিয়া পুলিশ অফিসার‑ইন‑চার্জ এ.এফ.এম. সায়েদ, ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান ও নির্মল কুমার দাস, সহকারী উপ-ইনস্পেক্টর বিস্বজিৎ সাহা এবং সাইফুলের সহকারী রনি ভূইয়ান।
অবশিষ্ট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তাদের মধ্যে প্রাক্তন সাভার সার্কেল অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ মো. শাহিদুল ইসলাম, প্রাক্তন ঢাকা জেলা অতিরিক্ত এস.পি. আবদুল্লাহি কাফি, প্রাক্তন ডিটেকটিভ শাখা ইন্সপেক্টর আরফাত হোসেন, প্রাক্তন আশুলিয়া উপ‑ইনস্পেক্টর আরফাত উদ্দিন, আবদুল মালেক ও শেখ আজালুল হক, সহকারী উপ‑ইনস্পেক্টর কামরুল হাসান এবং কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শেখ আজালুল হক মামলায় স্বীকারোক্তি প্রদান করে সহযোগী সাক্ষী (অপ্রুভার) হিসেবে কাজ করছেন।
আইসিটি‑২ রায়ের পর আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আপিলের অধিকার প্রদান করেছে; আপিল প্রক্রিয়া চললে দণ্ডের কার্যকরতা স্থগিত থাকবে।
অপরাধের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্টদের পদমর্যাদা বিবেচনা করে, আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের রায়ে উচ্চতর শাস্তি দেওয়া সাধারণত কঠোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়।
এই রায়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তদন্ত চালু রয়েছে; তদন্ত সংস্থা মামলার প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
মামলার প্রভাবের দিক থেকে, আইসিটি‑২ রায়টি দেশের অপরাধবিরোধী ন্যায়বিচার ব্যবস্থার শক্তি ও স্বচ্ছতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং কোনো অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না করা জরুরি।



