চট্টগ্রাম বন্দর অব্যাহত কর্মবিরতির তৃতীয় দিন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০ টায় নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন বন্দর ফটকে কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিল, এবং উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেন।
বন্দরের প্রধান সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে হোসেনের গাড়ি কর্মীদের বাধা দেয়, ফলে তিনি গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলাপ করেন। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন, যিনি ৩২ বছর ধরে বন্দর কর্মী, বলেন, “এ ধরনের আচরণ এবং হয়রানি গত দেড় বছরে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, এবং আমরা বর্তমান চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চাই।” তিনি বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানকে অপসারণের দাবি জানান।
উপদেষ্টা হোসেন কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে এক-এক করে কথা বলব এবং চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত করব।” তিনি যোগ করেন, “গত দেড় বছর ধরে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করছি, আপনার কথা শোনার পাশাপাশি আমার কথাও শোনার সুযোগ পাবেন।” এই কথায় কর্মীরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করে।
দুপুরের দিকে, বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে হোসেন আবার গাড়ি থেকে নামেন, যেখানে তিনি আবার কর্মীদের প্রতিবাদে মুখোমুখি হন। কর্মবিরতির তৃতীয় দিনেও বন্দর সম্পূর্ণভাবে বন্ধ, কোনো কনটেইনার রপ্তানি হয়নি এবং আমদানি পণ্যও খালাস করা হয়নি।
এই কর্মবিরতি চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারার জন্য দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধে শুরু হয়েছে। গত শনিবার থেকে তিন দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পর, মঙ্গলবার থেকে কর্মীরা অবিরাম কর্মবিরতি চালিয়ে যান, যার ফলে বন্দর কার্যক্রম সম্পূর্ণ থেমে যায়।
প্রতিবাদকারীরা বন্দর বিভিন্ন ফটকে অবস্থান করে, কর্মীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে এবং তিনটি প্রধান টার্মিনাল—জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)—এ প্রবেশ নিষেধ করে। কর্মবিরতির ফলে বন্দর ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি বড় ক্ষতির মুখে।
উপদেষ্টা হোসেনের ঢাকা থেকে আগমনের সময় কর্মীরা ১১ টার দিকে বন্দর ফটকে উপস্থিত ছিলেন, এবং তার পরের সময়ে তিনি একাধিকবার কর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি হন। তিনি কর্মীদের দাবি শোনার এবং সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, তবে এখনো চেয়ারম্যানের পদত্যাগের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
বন্দরের অবস্থা এখনও অচল, এবং কর্মবিরতির পরিণতি বাণিজ্যিক শৃঙ্খলে বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়ছে, যাতে বন্দর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যায় এবং শ্রমিকদের বৈধ দাবি মেটানো যায়।
বন্দরের কর্মবিরতির পরবর্তী ধাপ এখনও অনিশ্চিত, তবে কর্মীরা দাবি করে যে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিরতি চালিয়ে যাবে। নীতি নির্ধারক ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি এখনো সমঝোতার পথ খুঁজছে, যা বন্দরকে পুনরায় চালু করার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হবে।



