নরসিংদি-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার ওরফে সারোয়ার তুষার বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখে জানান, দাঁড়িপাল্লা সমর্থনে গোপন মিছিল ও প্রচারণা এখনও বন্ধ হয়নি।
সারোয়ার তুষার উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামির নামে কিছু লোক নরসিংদি-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা পক্ষে ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন এবং আজই তারা একটি মিছিলের আয়োজন করেছে। একই সময়ে জামায়াত-এ-ইসলামির দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, তারা এসব কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নয়।
প্রার্থীর পোস্টে তিনি বলেন, গোপন মিছিলের অব্যাহত থাকা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) জামায়াত-এ-ইসলামির সম্মানিত আমির তাকে জোটের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং শাপলা কলি চিহ্নটি উপহার হিসেবে দেন।
শাপলা কলি চিহ্নটি জামায়াত-এ-ইসলামির ঐতিহ্যবাহী প্রতীক, যা সাধারণত নির্বাচনী তালিকায় ব্যবহার করা হয় না। তবে দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার পূর্বে ইলেকশন কমিশনকে চিঠি লিখে দাঁড়িপাল্লা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
সারোয়ার তুষার উল্লেখ করেন, যদিও কেন্দ্রীয় স্তরে জামায়াত-এ-ইসলামির কিছু নেতার কাছ থেকে সমর্থন প্রত্যাশা করা হয়, তবু স্থানীয় সংগঠনগুলো এখনও জোটের পক্ষে থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি আল্লাহকে সর্বোত্তম ফয়সালাকারী বলে উল্লেখ করে শেষ করেন।
প্রতিবাদী পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, জামায়াত-এ-ইসলামির কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মিছিলের বিষয়ে অজানা থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং গোপন প্রচারণা সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকার কথা জানান। তারা দাবি করেন, কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এমন কার্যক্রমের কোনো ভিত্তি নেই।
এই বিবাদের পটভূমিতে রয়েছে নরসিংদি-২ আসনের নির্বাচনী প্রতিযোগিতা, যেখানে জোটের প্রার্থীকে জামায়াত-এ-ইসলামির সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হচ্ছে। গোপন মিছিলের উপস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, যদি গোপন মিছিলের অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামির দায়িত্বশীলদের অজ্ঞতার দাবি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তবে মিছিলের দায়িত্ব অন্য কোনো গোষ্ঠীর উপর পড়তে পারে।
নরসিংদি-২ আসনে ভোটার তালিকায় দাঁড়িপাল্লা চিহ্নের উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত নয়। ইলেকশন কমিশনের পূর্ববর্তী চিঠি অনুসারে, দলগুলোকে তালিকায় চিহ্ন যুক্ত করার আগে অনুমোদন নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ার দেরি হলে মিছিলের বৈধতা নিয়ে আরও বিতর্ক উন্মোচিত হতে পারে।
প্রার্থীর পোস্টে উল্লেখিত শাপলা কলি চিহ্নের বিতরণ জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতার একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। যদি জামায়াত-এ-ইসলামির স্থানীয় সংগঠনগুলো সত্যিই জোটের পক্ষে থাকে, তবে এই চিহ্নটি সমর্থকদের মধ্যে পরিচয় ও সংহতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অজ্ঞতার দাবি নির্বাচনী কৌশলগত দিক থেকে প্রশ্ন তুলতে পারে। যদি কেন্দ্রীয় স্তরে কোনো সমর্থন না থাকে, তবে স্থানীয় স্তরে স্বতন্ত্রভাবে গোপন মিছিলের আয়োজন করা দলের স্বায়ত্তশাসনের ইঙ্গিত হতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিতর্কের বৃদ্ধি রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করতে পারে। জোটের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা এখনো স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি, গোপন মিছিলের দায়িত্ব কার উপর এবং কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
ভবিষ্যতে ইলেকশন কমিশন যদি মিছিলের বৈধতা ও চিহ্নের ব্যবহার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা নরসিংদি-২ আসনের ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, জামায়াত-এ-ইসলামির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় স্তরের সমন্বয় কীভাবে কাজ করবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।
সারোয়ার তুষারের অভিযোগ ও জামায়াত-এ-ইসলামির অজ্ঞতার দাবির মধ্যে চলমান এই পারস্পরিক বিরোধ নরসিংদি-২ আসনের রাজনৈতিক গতিপথকে নতুন মোড় দিতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



