জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তন স্ত্রী বিদিশা এরশাদ ২ ফেব্রুয়ারি তার ফেসবুক পেজে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি শেয়ার করেন। চিঠিতে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সরবরাহের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বাস্তবায়নের পথ সম্পর্কে স্পষ্টতা চান। এই প্রকাশনা ইন্টারনেট নীতি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিদিশা এরশাদ সামাজিক বিষয়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত ফেসবুকে লেখালেখি করেন। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে পূর্বে বিবাহিত ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক প্রোফাইলের কারণে মিডিয়ায় প্রায়শই আলোচিত হন। তার পোস্টগুলো সাধারণত জনমত গঠন এবং নীতি সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপনে কেন্দ্রীভূত থাকে।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে তারেক বিভিন্ন সমাবেশে বিনামূল্যে ইন্টারনেটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড এবং রেলস্টেশনে ফ্রি ইন্টারনেট প্রদান এবং পরবর্তীতে প্রতিটি বাড়িতে নেট সংযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া তিনি কড়াইল বস্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করেন, যা জনসাধারণের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে।
বিদিশা প্রথমে জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে প্রায় বিশ কোটি নাগরিকের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করা প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দিক থেকে বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি প্রশ্ন করেন, এই লক্ষ্যে সরকার কী ধরনের অবকাঠামো গঠন এবং কোন আর্থিক মডেল ব্যবহার করতে চায়। তিনি সংক্ষেপে উত্তর চেয়ে থাকেন, যাতে নাগরিকরা পরিকল্পনার বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।
দ্বিতীয় প্রশ্নে তিনি দেশের টেলিকম অপারেটরদের বর্তমান ব্যবসায়িক মডেলকে উল্লেখ করেন, যেখানে ইন্টারনেটকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বিক্রি করা হয়। তিনি জানতে চান, সরকার কীভাবে এই অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি বাস্তবায়ন করবে এবং কি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করা সম্ভব হবে। এই ধরনের সমন্বয় নাগরিকের স্বার্থ রক্ষায় কতটা কার্যকর হবে, তা তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন।
তৃতীয় অংশে তিনি সিঙ্গাপুরের উদাহরণকে তুলনা করে দেখেন, তবে স্বীকার করেন যে সিঙ্গাপুরের আয়তন, জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক কাঠামো বাংলাদেশের থেকে ভিন্ন। তাই তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কোন আন্তর্জাতিক মডেল বাংলাদেশে সর্বোত্তমভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে। এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি দেশের নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণের দরজা খুলে দেন।
চিঠির শেষে তিনি কয়েকটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি সারা দেশে পাবলিক ফ্রি ওয়াই-ফাই জোনের সম্প্রসারণ, নিম্ন-আয়ের পরিবারের জন্য সস্তা ও দ্রুত ইন্টারনেট, গ্রামীণ এলাকায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইন্টারনেট সুবিধা প্রস্তাব করেন। এসব প্রস্তাব তারেকের পূর্বের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা নিয়ে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলবে। বিদিশার চিঠি বিএনপির ইন্টারনেট নীতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা দাবি করে, যা ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহের দিক থেকে ইতিবাচক ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বিএনপি নেতৃত্বের কাছ থেকে এখনো কোনো সরাসরি উত্তর প্রকাশিত হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই প্রশ্নোত্তর ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সরকার বা পার্টি এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান উপস্থাপন করে, তবে তা ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, উত্তর না দিলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এই বিষয়কে ব্যবহার করে সমালোচনা করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বিদিশা এরশাদের খোলা চিঠি বাংলাদেশের ইন্টারনেট নীতি, অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং পাবলিক-প্রাইভেট সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এই আলোচনার মাধ্যমে জনসাধারণের প্রত্যাশা ও সরকারের দায়িত্বের মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমানা গড়ে উঠবে।



