চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিশ্বরোড মোড়ে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি তোরণকে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় প্রশাসন সরিয়ে ফেলেছে। তোরণটি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ভেঙে ফেলা হয়, যা নির্বাচনের ন্যায্যতা রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তোরণটি ডা. শফিকুর রহমানের আসন্ন সফরের স্বাগত জানাতে স্থানীয় সমর্থকরা নির্মাণ করেছিল। তোরণটি বিশ্বরোডের প্রধান মোড়ে স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে শহরের গমনাগমন বেশি এবং রাজনৈতিক সমাবেশের দৃশ্যমানতা বাড়ে। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা দলকে এ ধরনের কাঠামো তৈরি করা নিষিদ্ধ, এ নিয়মের ভিত্তিতে প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়।
বিকাল ৯টার পর ঘনবায়ুতে তোরণটি ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক নাহিদ। তিনি জানান, তোরণটি নির্মাণের সময় কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি উপস্থিত না থাকায় প্রশাসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তোরণটি ভেঙে ফেলার কাজটি রাতের অন্ধকারে সম্পন্ন হয়, যাতে জনসাধারণের অশান্তি কমে।
মো. ইকরামুল হক নাহিদ নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তোরণ নির্মাণ নিষিদ্ধ।” তিনি যোগ করেন, ডা. শফিকুর রহমানের সফরটি নির্বাচনী জনসভা হিসেবে গণ্য হয় এবং তোরণ নির্মাণ সরাসরি বিধি লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশাসন তোরণটি সরিয়ে ফেলতে গিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে খুঁজে পায়নি বলে নিজে থেকেই কাজটি সম্পন্ন করে। তোরণটি ভেঙে ফেলার আগে কোনো অনুমোদিত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় না করা হয়, যা পরে জামায়াতের নেতাদের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশাসনের এই স্বতঃস্ফূর্ত পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক নির্বাচন আইনের কঠোর প্রয়োগ হিসেবে দেখেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির গোলাম রাব্বানী তোরণ ভাঙা নিয়ে অব্যক্ত রাগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমিরের কর্মসূচি ঘিরে তোরণ ভেঙে ফেলা অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি সফর করছেন এবং সেখানেও তোরণ তৈরি হয়েছে। অন্য কোথাও যদি তোরণ রাখা যায়, তবে আমাদের এখানেও রাখা যেত। অপসারণের আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল।” রাব্বানী তোরণ পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমানের সফর আগামীকাল (৫ ফেব্রুয়ারি) নির্ধারিত রয়েছে। তোরণ অপসারণের পরেও সফরটি নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। তবে তোরণ পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা ও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। উভয় পক্ষই আইনগত দিকটি মেনে চলার দাবি রাখলেও, স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা বিবেচনা করে তোরণটি সরিয়ে ফেলেছে, যা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। তবে জামায়াতের নেতাদের মতামত ও ভবিষ্যৎ সফরের প্রস্তুতি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন স্তরে নিয়ে যেতে পারে। নির্বাচনের আগে এধরনের পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



