বাগেরুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী কন্যার ওপর পিতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তি গত রাত্রি গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতারের ভিত্তি হল মাতা ও কন্যা উভয়ের দ্বারা দায়ের করা অপরাধমূলক মামলা।
মাতা গতকাল পাথরঘাটা থানা-তে অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে তিনি জানিয়ে দেন যে তার স্বামী তার কন্যার ওপর যৌন নির্যাতন করেছেন। অভিযোগের পর কন্যা, যিনি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী, নিজেও লিখিতভাবে একই অভিযোগ দাখিল করেন।
থানার ওসির মতে, কন্যা তার পিতা ও সৎমায়ের সঙ্গে একসাথে বসবাস করছিলেন। অভিযোগে উল্লেখ আছে যে জানুয়ারি মাসে দু’বার বাড়িতে পিতার দ্বারা যৌন নির্যাতন ঘটেছে।
নির্যাতনের পর পিতার দাবি ছিল কন্যাকে গর্ভধারণ রোধে গর্ভনিরোধক গুলি গ্রহণে বাধ্য করা। এ বিষয়ে কন্যা ও মাতা উভয়েই আইনি ব্যবস্থা নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
থানা-র ওসিরা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি আজ আদালতে হাজির হবেন, যেখানে কন্যা ও মাতা উভয়েই উপস্থিত থাকবেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট শাহেদ আহমেদ চৌধুরী গ্রেফতার ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সন্দেহভাজনকে আজকের সেশনে আদালতে উপস্থিত হতে হবে। কন্যা ও মাতা উভয়েই আদালতে গিয়ে অতিরিক্ত নির্দেশনা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রসিকিউশন দল অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমাণ সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যদাতা ও ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। তদন্তের সময়কালে সকল প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংরক্ষণ করা হবে।
পুলিশের মতে, এই ধরনের পারিবারিক অপরাধের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। কন্যার গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া হবে।
স্থানীয় সমাজে এই ঘটনার প্রতি শোক ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে, এবং নারীর অধিকার সংরক্ষণে সক্রিয় পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় নেতারা দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।
শিকারের মানসিক ও শারীরিক পুনর্বাসনের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ও সামাজিক সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তা শিকারের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মামলার চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা চললেও, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সকলের প্রত্যাশা। বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ধরনের পারিবারিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকারী ও সামাজিক সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।



