দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আউটব্যাকের একটি দূরবর্তী ভেড়ার স্টেশনে ৪ বছর বয়সী গাস ল্যামন্টের নিখোঁজ হওয়া পুলিশ প্রধান অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং একাধিক মাসের অনুসন্ধানের পর সন্দেহভাজন চিহ্নিত হয়েছে।
গাসকে শেষবার দেখা যায় ২৭ সেপ্টেম্বর তার বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে; তার দাদী প্রায় অর্ধ ঘন্টার জন্য তাকে একা রেখে যাচাই করার সময় শিশুটি অদৃশ্য হয়ে যায়।
দাদীর দ্রুত অনুসন্ধানে শিশুর অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় রাজ্যের ইতিহাসে বৃহত্তম ভূমি ও আকাশ অনুসন্ধান চালু হয়। এই অনুসন্ধানে প্রায় ৪৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা—এডিনবারের দ্বিগুণের সমান—কভার করা হয়।
পুলিশের মতে, এই ব্যাপক অনুসন্ধান এবং তথ্য বিশ্লেষণের পর ঘটনাটিকে ‘প্রধান অপরাধ’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্থানীয় বাসিন্দাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও গাসের পিতামাতা কোনো তদন্তের অধীন নয়।
অক্টোবরের শেষের দিকে, বৃহৎ অনুসন্ধান কার্যক্রম ধীর করে ১২ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয় যাতে তদন্তের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। টাস্কফোর্সের কাজের মধ্যে পরিবারিক সদস্যদের পূর্বের বিবৃতি পর্যালোচনা করা এবং সময়সীমার অসঙ্গতি চিহ্নিত করা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিবৃতিগুলিতে পাওয়া অসঙ্গতি এবং সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে টাস্কফোর্সের এক সদস্য জানিয়েছেন যে, ওক পার্ক স্টেশনে বসবাসকারী একজন ব্যক্তি এখনো পুলিশকে সমর্থন দিচ্ছেন না এবং সহযোগিতা বন্ধ করেছে।
সন্দেহভাজনের সহযোগিতা বন্ধ হওয়ায় তদন্তের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে, তবে গাসের পিতামাতাকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।
জানুয়ারিতে স্টেশনের সম্পত্তিতে একটি অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়, যার ফলে একটি গাড়ি, একটি মোটরসাইকেল এবং কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। এই জব্দকৃত সামগ্রীগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট বিবেচনা করেছিল: শিশুটি নিজে থেকে দূরে চলে গিয়েছে, কেউ তাকে অপহরণ করেছে, অথবা গাসের পরিচিত কেউ তার নিখোঁজে জড়িত।
স্টেশনের দূরবর্তী অবস্থান এবং অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণ সন্দেহ বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং গাসের স্বেচ্ছায় দূরে সরে যাওয়ার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
এই ফলাফলের ভিত্তিতে, তদন্তকারী দল এখনো নিশ্চিত নয় যে কীভাবে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছে, তবে সন্দেহভাজনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সম্ভাবনা তদন্তের মূল দিক হিসেবে রয়ে গেছে।
অধিক তদন্তের জন্য টাস্কফোর্স সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা গ্রেফতার এখনো প্রকাশিত হয়নি। ভবিষ্যতে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো হবে।



