27 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরান নতুন ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করে, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির প্রতি সতর্কতা

ইরান নতুন ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করে, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির প্রতি সতর্কতা

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নতুন একটি ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং গার্ডের এয়ারস্পেস বিভাগের প্রধান সায়েদ মাজেদ মৌসাভি ঘাঁটি পরিদর্শন করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আব্দুল রহমান মৌসাভি ঘাঁটির মিসাইল সক্ষমতা ও যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উপস্থিত কমান্ডারদের জানিয়ে দেন, ইরান এখন শত্রুর যেকোনো উসকানির মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

মৌসাভি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ইরানের সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন দেশটি কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

নতুন ঘাঁটিতে আধুনিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল সংরক্ষিত, যা শত্রুর কৌশলকে ব্যাহত করার ক্ষমতা রাখে। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এখন অসম যুদ্ধ এবং অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যাতে শক্তিশালী শত্রুর আক্রমণও ব্যর্থ হয়।

এই পদক্ষেপটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর পার্শ্ববর্তী জলে সাম্প্রতিক বাড়তি উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সমান শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে এই ঘাঁটি গঠন করেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তেহরানের এই কাজটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতি কঠোর সতর্কতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়, বিশেষ করে যখন উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো আক্রমণ হলে তারা হাত গুটিয়ে বসবে না।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দেন, ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ইরানের কৌশলগত গভীরতা বাড়াবে এবং সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণের সময় প্রতিক্রিয়া সময় কমাবে। একই সঙ্গে এটি ইরানের রকেট ও মিসাইল নেটওয়ার্ককে আরও গোপনীয় ও সুরক্ষিত করে তুলবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে পারসিয়ান উপসাগরে যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত সৈন্যবাহিনীর মোতায়েন অন্তর্ভুক্ত। ইরানের এই নতুন ঘাঁটি সেই পরিবেশে একটি প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে তার পরিণতি একাধিক দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এবং ভয়াবহ হবে।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান সংলাপের সত্ত্বেও এই ধরনের সামরিক প্রদর্শনী আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের ধারাবাহিকতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।

ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির নির্মাণ ও উদ্বোধন ইরানের সামরিক শিল্পের স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যের অংশ। দেশটি দীর্ঘদিনের স্যান্কশন ও আন্তর্জাতিক চাপের পরেও নিজস্ব মিসাইল প্রযুক্তি উন্নয়নে অগ্রসর হয়েছে।

পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগের দিকনির্দেশনা এবং পারসিয়ান উপসাগরে সামরিক কার্যক্রমের পরিবর্তন ঘাঁটির কৌশলগত প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments