27 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচট্টগ্রাম বন্দর পরিস্থিতি সমাধানে জরুরি বৈঠক, কর্মী ও ব্যবহারকারীরা অংশগ্রহণ

চট্টগ্রাম বন্দর পরিস্থিতি সমাধানে জরুরি বৈঠক, কর্মী ও ব্যবহারকারীরা অংশগ্রহণ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) গত বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, সকাল দশটায় বন্দর পরিচালনা ও শ্রমিক অশান্তি মোকাবিলার জন্য জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। বৈঠকের প্রধানতত্ত্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের (জাহাজ মন্ত্রণালয়) উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্দর কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পণ্য খালাস ও লোডিং প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করা এবং শ্রমিকদের দাবি সমন্বয় করে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। চবকের সচিবের স্বাক্ষরিত ৪ ফেব্রুয়ারির চিঠিতে এই বৈঠকের গুরুত্ব ও এজেন্ডা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

সভায় চবকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিরাপত্তা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা এবং বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সকল অংশগ্রহণকারীকে বৈঠকের সময়সূচি ও আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে বন্দর পরিচালনা স্বাভাবিক করা, পণ্য হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ার স্থবিরতা দূর করা এবং উদ্ভূত সমস্যার সমাধান নির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়।

গত কয়েক দিনে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন এলাকায় শ্রমিকদের কর্মবিরতি, বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধের ফলে পণ্য হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই অবরোধের ফলে জাহাজ জট এবং ইয়ার্ডে পণ্য জট বাড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, যা দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহে প্রভাব ফেলছে।

বন্দরের লোডিং ও আনলোডিং কার্যক্রমে বিলম্বের ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের সময়মত সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কন্টেইনার টার্মিনাল ও গুদামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সময়সীমা অতিক্রমের ফলে অতিরিক্ত সংরক্ষণ খরচ এবং দেরি শুল্কের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্দরের জাহাজ জটের ফলে শিপিং লাইনগুলোকে বিকল্প রুট বা অতিরিক্ত অপেক্ষার সময় গ্রহণ করতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক লজিস্টিক খরচ বাড়াচ্ছে। ইয়ার্ডে পণ্য জট বাড়ার ফলে গুদামস্থল ও ট্রাকিং সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে স্থানীয় পরিবহন বাজারে অস্থায়ী মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতি সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর শিল্প ও কাঁচামাল আমদানিকারকদের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মত পণ্য সরবরাহ না হওয়া উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত করতে পারে এবং বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি করতে পারে।

বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে, যাতে বন্দর কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং বাণিজ্যিক ক্ষতি কমে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অবরোধ রোধে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেন যে, বন্দর কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধার হলে শিপিং সময়সীমা স্বল্পমেয়াদে স্বাভাবিক হবে এবং অতিরিক্ত লজিস্টিক খরচ কমে যাবে। তবে, যদি সমাধান দেরি হয়, তবে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব দেখা দিতে পারে।

সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক শ্রমিকদের দাবি ও বন্দর নিরাপত্তা সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে আমদানি-রপ্তানি প্রবাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments