ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ গ্রহণের প্রস্তুতিতে রয়েছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দু’টি পদই শূন্য থাকায় সংবিধানের বিশেষ ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.এম.এম. নাসিরউদ্দিন শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন বলে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংবিধানের ধারা ১৪৮‑এর বিভিন্ন উপধারায় স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ না দিলে কী করা হবে তা নির্ধারিত আছে। গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার শপথ না দেন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। এই বিধানই বর্তমান পরিস্থিতিতে সিইসির ভূমিকা নিশ্চিত করছে।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন দেখা যায়; স্পিকারের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি সংবিধানিক প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত প্রস্তুতি দাবি করেছে। ফলে, শপথের সময়সূচি নিশ্চিত করতে সিইসির হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
ধারা ১৪৮(১) সাধারণত বিদায়ী স্পিকারকে নতুন এমপিদের শপথ করানোর অনুমতি দেয়, তবে ১৪৮(২ক) স্পষ্ট করে যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না হলে সিইসি এই কাজটি সম্পন্ন করবেন। এই ধারার ভিত্তিতে সিইসির দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
সংবিধানের তফসিল‑৩ অনুসারে, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে সিইসি শপথের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। এই বিধানটি প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা প্রয়োজনীয় নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট শেষ হওয়ার আগে শপথ কক্ষ ও সংসদ অধিবেশন কক্ষের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুল রহমানেল মাছউদ উল্লেখ করেছেন, সংবিধানিক নিয়মের বাইরে কোনো বিকল্প নেই; স্পিকার না থাকলে সিইসি শপথ গ্রহণের দায়িত্ব নেবেন। তিনি এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন যে, প্রক্রিয়াটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
ইসিসি ও সংসদ সচিবালয়ের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় চলছে এবং একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাবও তৈরি হয়েছে। এই কমিটি শপথের সময়সূচি, নিরাপত্তা ও প্রোটোকল সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারকি করবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহদীন মালিকের মতে, স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সিইসির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ সম্পূর্ণ বৈধ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, শপথে বিলম্ব হলে সংসদের বৈধতা ও কার্যক্রমে আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিপক্ষের কিছু নেতা বলছেন, স্পিকারের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা উচিত যাতে সিইসির হস্তক্ষেপ কমে এবং সংসদের স্বতন্ত্রতা বজায় থাকে। তারা যুক্তি দেন, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে একটি পূর্বধারণা তৈরি করতে পারে যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী শপথের স্বাভাবিক পদ্ধতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সংসদ গঠন হবে এবং আইনসভার কাজ শুরু হবে। এই সময়ে সরকারী এজেন্ডা, বাজেট অনুমোদন ও নীতি নির্ধারণের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সংবিধানিক সময়সীমা মেনে শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হলে, নতুন সংসদ সদস্যরা সরকারী দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবে এবং দেশের শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে।



